গ্যাস বিস্ফোরণে চলে গেলেন বাবা-মা-ছেলে-মেয়ে, ভস্ম এক পরিবার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের কেউই আর বেঁচে নেই। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন সবাই। আজ শনিবার (১৬ মে ) সকালে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামে স্ত্রী ও তিন সন্তানের দাফন সম্পন্ন হবে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন—সবজি ব্যবসায়ী আবুল কালাম (৪০) ওরফে সোহাগ, তার স্ত্রী সায়মা আক্তার (৩২), বড় মেয়ে মুন্নি (১০), ছেলে মুন্না (৮) ও ছোট মেয়ে কথা মনি (৭)।
গত রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভাড়া বাসায় দিয়াশলাই জ্বালাতেই জমে থাকা গ্যাস থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রায় পাঁচ দিন আগে লাইনের লিকেজের বিষয়টি বাড়িওয়ালাকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ স্বজনদের। বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় সবাইকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার প্রথমে মারা যান পরিবারের অভিভাবক আবুল কালাম। সেদিনই গ্রামের বাড়িতে এনে তাকে দাফন করা হয়। এরপরের দুই দিনে একে একে প্রাণ হারায় তাদের তিন শিশুসন্তান। আর সবশেষে গত শুক্রবার মৃত্যুর কাছে হার মানেন স্ত্রী সায়মা আক্তার। আজ শনিবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে কালামের কবরের পাশেই তার স্ত্রী ও সন্তানদের সমাহিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, প্রায় দুই দশক আগে মা-বাবাকে হারিয়ে জীবিকার তাগিদে নারায়ণগঞ্জে পাড়ি জমিয়েছিলেন কালাম। সেখানে সবজি ব্যবসা করে পরিবার নিয়ে সুখেই দিন কাটছিল তার। কিন্তু এক অবহেলা আর গ্যাস বিস্ফোরণের আগুনে নিমিষেই ছাই হয়ে গেল পুরো পরিবারটি। কালামের পৈত্রিক ভিটায় আজ আর আলো জ্বালানোর মতো কেউ বেঁচে রইল না।