১৫ মে ২০২৬, ০০:৩৮

চুয়াডাঙ্গায় অভিনেত্রীর আত্মহত্যা, দাফনে বাধা স্থানীয়দের

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গা শহরতলিতে নাচ-গান ও টিকটকে সক্রিয় থাকার অভিযোগ তুলে সুবর্ণা আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়াড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৩ মে) রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুবর্ণা আক্তার। তিনি সেখানে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে স্থানীয়দের আপত্তির মুখে দাফন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুবর্ণা দীর্ঘদিন ধরে নাচ-গান ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে টিকটকে তার সক্রিয়তা নিয়েও তাদের আপত্তি ছিল। এছাড়া তার পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলা হয়। এসব কারণ দেখিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করতে অস্বীকৃতি জানান এলাকাবাসীর একাংশ।

এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আমাদের আপত্তি ছিল। তাই এলাকাবাসী এখানে দাফনে রাজি হয়নি।’ আরেক বাসিন্দা মিনারুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আমাদের নিজস্ব কবরস্থান। তারা এই কবরস্থানের সদস্য না। আগে সদস্য হওয়ার কথা বলা হলেও তারা তা মানেননি।’

অন্যদিকে, সুবর্ণার পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার সৎ বাবা ইসরাইল হোসেন বলেন, ‘আমাদের পরিবারের আগের সদস্যদের এখানেই দাফন করা হয়েছে। এখন কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে বুঝতে পারছি না। কবর খুঁড়তেই দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অন্যত্র দাফনের চিন্তা করছি।’

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, দৌলতদিয়াড় দক্ষিণপাড়ার ওহিদ মোল্লার মেয়ে সুবর্ণা আক্তারের প্রথম বিয়ে হয়েছিল চুয়াডাঙ্গার তুহিনের সঙ্গে। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগে দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি স্বামী-সন্তান রেখে ঝিনাইদহের শৈলকুপার পাভেলের সঙ্গে নতুন সংসার শুরু করেন। পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক পারিবারিক অশান্তির কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। একজন মৃত ব্যক্তির দাফনকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় মানবিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে নানা প্রশ্ন উঠেছে।