৩৩ মণের ‘বাংলার ডন’ কাঁপাবে কোরবানির হাট
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শেরপুরের কোরবানির পশুর খামারগুলোতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জেলার বিভিন্ন খামারে ছোট-বড় হাজারো গরু প্রস্তুত করা হলেও সবার নজর কেড়েছে এক বিশালাকৃতির ষাঁড়—‘বাংলার ডন’। ৩৩ মণ ওজনের এই গরুটি নিয়ে ইতোমধ্যেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশাল দেহের কারণে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন গরুটি এক নজর দেখতে।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাপাশিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার আলিফ লাম এগ্রোতে তিন বছর ধরে যত্নে-আদরে লালন-পালন করা হচ্ছে ‘বাংলার ডন’-কে। খামার সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী শাহজাহান আলীর মালিকানাধীন ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩৩ মণ। গরুটির দৈর্ঘ্য ১১ ফুট এবং উচ্চতা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি। বিশাল গড়নের কারণে খামারে আসা দর্শনার্থীদের বেশিরভাগই প্রথম দেখায় বিস্মিত হয়ে পড়ছেন।
খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘বাংলার ডন’-এর পরিচর্যায় নেওয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। প্রতিদিন প্রায় ৮০ কেজি ঘাস ও খড় খাওয়ানো হয় তাকে। পাশাপাশি দিতে হয় প্রায় ২০ কেজি খৈল, ভুষি ও ভুট্টার গুঁড়া। শুধু খাবার নয়, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যের দিকেও রাখা হচ্ছে বাড়তি নজর। দিনে তিন থেকে চারবার গোসল করানো হয় ষাঁড়টিকে। এছাড়া নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণও করা হচ্ছে।
আলিফ লাম এগ্রোর ম্যানেজার রফিক মিয়া বলেন, আমাদের খামারে এবার কোরবানির জন্য অনেক গরু প্রস্তুত আছে। তবে ‘বাংলার ডন’-এর মতো আর একটিও নেই। এই গরুটি এবার পুরো শেরপুর কাঁপাবে। কেজি হিসেবে বিক্রি করলেও এর দাম প্রায় ১৫ লাখ টাকা হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের খামারে ২৫ থেকে ২৮ মণের আরও ৮ থেকে ১০টি বড় গরু রয়েছে। এছাড়া মোট শতাধিক গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ‘বাংলার ডন’কে ঘিরেই।
খামারের শ্রমিক হাবিব জানান, এত বড় গরু পালন করা সহজ নয়। নিয়মিত পরিচর্যা, খাবার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য আলাদা শ্রম দিতে হয়। তিনি বলেন, “আমরা পরিবারের সদস্যের মতো করেই বাংলার ডনের যত্ন নিই। মালিক আমাদের খুব ভালোভাবে দেখভাল করেন। তাই আমরাও তার গরুগুলোর প্রতি আন্তরিক। অন্য সব গরুর চেয়ে বাংলার ডনের প্রতি আমাদের আলাদা মায়া কাজ করে।
বিশাল আকৃতির গরুটি দেখতে আশপাশের উপজেলা ছাড়াও দূরবর্তী এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসছেন। ঝিনাইগাতী থেকে গরুটি দেখতে আসা রুবেল বলেন, এর আগে এত বড় গরু কখনও কাছ থেকে দেখিনি। শুধু এক নজর দেখার জন্যই এখানে এসেছি। সত্যিই অবাক হওয়ার মতো একটি গরু। এমন গরু পালনের ইচ্ছাও জাগছে।
এদিকে প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, উন্নত জাতের গবাদিপশু পালনে খামারিদের আগ্রহ বাড়ায় জেলায় বড় আকৃতির গরুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শেরপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেজুয়ানুল হক ভূইয়া বলেন, গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের সুফল হিসেবে বর্তমানে দেশে ফ্রিজিয়ান ও শাহিওয়াল জাতের অনেক বড় গরু উৎপাদন হচ্ছে। শেরপুরের খামারিরাও এখন বাণিজ্যিকভাবে বড় গরু প্রস্তুত করতে সক্ষম হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন কোরবানির হাটে শেরপুরের বড় গরুগুলো ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে বলে আমরা আশা করছি। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে, যাতে গরুগুলো সুস্থ ও নিরাপদভাবে বাজারজাত করা যায়।
স্থানীয়রা বলছেন, কোরবানির ঈদ ঘিরে প্রতি বছরই বড় গরু নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়। তবে এবার বাংলার ডন’ নামের এই বিশাল ষাঁড়টি জেলার মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেকে শুধু ছবি তুলতে ও কাছ থেকে দেখতে খামারে ভিড় করছেন। কোরবানির হাটে ওঠার আগেই ‘বাংলার ডন এখন শেরপুরজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।