সাপের ছোবলে শিশুর মৃত্যু
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সাপের ছোবলে মো. ফাইজুল (৭) নামে প্রথম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাইজুল উত্তর কনকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র এবং ওই গ্রামের হাওলাদার বাড়ির ফরিদ হাওলাদারের ছোট ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ির উঠানের একটি পেয়ারা গাছে ওঠে ফাইজুল। এ সময় হঠাৎ একটি বিষধর সাপ তার ডান হাতে ছোবল দেয়। ছোবল খেয়ে গাছ থেকে নিচে পড়ে গিয়ে সে তার মাকে জানায়, তাকে ছোবল দিয়েছে। তবে কিসে ছোবল দিছে তা বলতে পারেনি।
প্রথমদিকে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেন, হয়তো কোনো পোকামাকড় কামড়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তবে কিছু সময়ের মধ্যেই ফাইজুলের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে সে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলে স্বজনরা দ্রুত তাকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. ইরফান উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করার সময়ই শিশুটির মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সাপের বিষক্রিয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
কনকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা ইয়াসমিন বলেন, ফাইজুল সকালে স্কুলে এসে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরে বিকেলে তার অসুস্থতার খবর পাই। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তার মৃত্যুতে সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে ঘোষণা করলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ আইনানুগভাবে বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য মতে সাপের দাতের মতনই দেখতে ক্ষত চিহ্ন শিশুর হাতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ভাবে সাপের বিষ নষ্ট করার ভ্যাক্সিন (এন্টিভেনাম) সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও পশুর আঘাত থেকে জলাতঙ্ক রোগ ছড়িয়ে না পড়ার প্রতিরোধক ভ্যাক্সিন সরবরাহ খুবই সীমিত। অথচ এই উপজেলা সাপের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা উর্ধ্বমুখী।