১২ মে ২০২৬, ২১:৩৭

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ৪ নারীর জমি দখল ও ধান লুটের অভিযোগ

বিএনপির লোগো/অভিযুক্ত ইউনিয়ন সভাপতি মো. ইব্রাহিম মিয়া  © টিডিসি

ভোলার লালমোহনে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে পেশিশক্তি ব্যবহার করে জমি দখল, পাকা ধান কেটে নেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মো. ইব্রাহিম মিয়া লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি এলাকায় একটি নিজস্ব ক্যাডার ও লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তুলেছেন, যাদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ৫ আগস্টের পর ইব্রাহিম মিয়া নিজের দলীয় পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করেন। গত বছরের ২৪ নভেম্বর ইউনিয়নের মাদ্রাসা বাজার সংলগ্ন ৬নং ওয়ার্ডের ১৬৬৪ নং খতিয়ানের ৫৮ এসএ দাগের ৫১ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলে নেন তিনি। এ সময় তার নির্দেশে ক্যাডার বাহিনী জমির পাকা ধান কেটে নিয়ে যায়। এই জমির বৈধ উত্তরাধিকারী ও মালিক নুর নাহার বেগম, পারুল বেগম, পারভীন বেগম ও ফাতেমা বেগম।

তাদের অভিযোগ, শুধু জমি দখল ও ধান কেটে নেয়াই নয়, এ ঘটনার পর বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন ইব্রাহিম মিয়া। তবে থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। বরং জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগীদের এসব অভিযোগ থাকলেও অভিযুক্তপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের পরিবার বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে জবরদখল করে ভোগ করে আসছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিবর্তিত সময়ে অভিযুক্তরা এর সমাধান চাইলে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এ নিয়ে দু’পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম বলেন, আমরা এই জমি বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি এবং দীর্ঘ সময় ধরে আমরা ভোগ করেছি। সেইসঙ্গে আমাদের কাছে দলিলসহ বৈধ সব কাগজপত্র রয়েছে। ইব্রাহিম মিয়া জোর করে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর জমির পাকা ধান তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে দখল করেছে এবং আমাদেরকে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর যন্ত্রণায় আমাদের জনজীবন অতিষ্ট। সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে ভুক্তভোগীদের নানা হুমকি দিয়ে আসছে এবং মালিকানা পরিত্যাগের জন্য তার লোকাল ক্যাডার বাহিনী দিয়ে প্রচন্ডভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছে।

আরও পড়ুন: বিএনপি নেতার টেবিলের নিচে মিলল ২০০ পিস ইয়াবা, জব্দের সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে পারুল বেগম বলেন, আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ইব্রাহিম মিয়া বিএনপির দলের প্রভাব দেখিয়ে আইনকে অবজ্ঞা করছে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। এখন আমরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি, যেকোনো সময় ক্যাডার বাহিনী ব্যবহার করে ইব্রাহিম মিয়া আমাদেরকে খুনও করতে পারে। আমরা জীবনের নিরাপত্তা চাই। ইব্রাহিম মিয়ার বৈধ কোনো কাগজ নেই। আমাদের জমি ফেরত চাই এবং ইব্রাহিম মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

আরেক ভুক্তভোগী পারভীন বেগম অভিযোগ করেন, ইব্রাহিম মিয়ার প্রভাবের কারণে স্থানীয় শালিসী বৈঠক বা আইনি ব্যবস্থা কোনোটিই কাজে আসছে না। তিনি বলেন, তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় বহু নিরীহ মানুষকে নির্যাতন করছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে, তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদেরও বিভিন্নভাবে তার দলের প্রভাব দেখিয়ে আইনের কার্যক্রম ব্যাহত করেন। এলাকায় একাধিকবার শালিসী বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, তিনি কখনোই তার দখলের পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। তবুও তিনি জোরপূর্বক জমি দখল করে রেখেছেন এবং আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. ইব্রাহিম মিয়া মুঠোফোনে কথা বলতে রাজি হননি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা মানুষের মুখে মুখে টুকটাক শুনি, কিন্তু আসলে এখনো সত্যতা পাইনি। তবে দলের ভেতরে যদি কেউ অনিয়ম করে, আমরা যদি ফাইন্ড আউট করতে পারি তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোন ছাড় দেওয়া হবে না। প্রমাণ পেলে উপযুক্ত বিচার করব।

আরও পড়ুন: সন্ত্রাসের অভিযোগে বিএনপির এক নেতাকে বহিস্কার

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এই জমি জমা নিয়ে দুই পক্ষের ভিতরে বিরোধ আছে দীর্ঘদিনের। দুই পক্ষই দুটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওনারা এটা নিয়া না বসে, কোন সমাধানে না গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এরকম করছেন।

ওসি বলেন, ইব্রাহিম মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী বিষয়টা অনেকটা রাজনৈতিক। অর্থাৎ আগে তাদের ক্ষমতা ছিল, তারা এটা জোর-জবরদখল করে খেয়েছে, সমাধান করেনি। এখন সমাধান চাচ্ছে, তাও দিচ্ছে না। এই নিয়ে তাদের ভেতরে হাতাহাতি হয়েছে। যেহেতু দুই পক্ষ দুই রকম কথা বলছে, আমি তাদেরকে স্থানীয়ভাবে বসতে বলেছি। আর আমাদের আইনে যা আছে, প্রয়োজন হলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিব।