১১ মে ২০২৬, ০০:৩৯

সম্পর্কের বিচ্ছেদ, ছাত্রী হোস্টেলের সামনে প্রেমিকের বিষপান

তানজিল আহমেদ  © সংগৃহীত

শেরপুর সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের (২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী তানজিল আহমেদ প্রেমঘটিত মানসিক সংকটের জেরে বিষপান করেছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রবিবার (১০ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শেরপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে, ছাত্রী হোস্টেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

জানা যায়, শেরপুর সরকারি কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে তানজিল আহমেদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই ছাত্রী কলেজের ছাত্রীনিবাসে থাকতেন। কয়েকদিন আগে তাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে। এরই জেরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে সহপাঠীরা জানান।

ঘটনার আগে তানজিল নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস শিডিউল করে রাখেন। সেখানে তিনি লেখেন—“এতো কিছুর পরেও তোমাকে আর আমার করে পাওয়া হলো না, কতো স্বপ্ন ছিল তোমাকে নিয়ে, কতই না বেহায়া ছিলাম তোমার জন্য, তোমার হাত-পা ধরেও রিকোয়েস্ট করছিলাম বাঁচতে দাও, দিলা না।
 
খুবই জিদি তুমি জানো, তোমার কাছে সামান্য কিছু ভালোবাসা চেয়েছিলাম এটাই কি ছিলো অনেক বেশি চাওয়া? আমার মৃত্যুতে কাউকে দায়ী করি না। পোস্টটা শিডিউল করে রেখে গেলাম, যদি জীবিত থাকি তবে অবশ্যই সময় চেঞ্জ করে দিব। আর যদি মারা যাই মাফ করে দিবেন, দুনিয়া খুবই কঠিন। যে ছেলে নারীর সঠিক ভালোবাসায় পড়ল তার জীবন একদম শেষ। তোমার কাছে এইটুকু চাওয়া আমি মারা যাওয়ার পর তুমি অন্যের বউ হবা জানি, ভালো লয়াল বউ হইয়, মানুষ ঠকাইয় না।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিষপানের পর কলেজ হোস্টেলের পাশে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি। এ সময় শেরপুর কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিহাদ তালুকদার ঘটনাটি দেখতে পেয়ে দ্রুত বিষয়টি সাধারণ সম্পাদক রায়হান ইসলাম রাব্বি ও সভাপতি আব্দুল্লাহ আল কোরাইশীকে জানান। পরে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তানজিলকে উদ্ধার করে শেরপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তানজিল আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।