১০ মে ২০২৬, ১৯:৫০

অত্যাচারী স্বামী জামিন পাওয়ায় বিচারকের সামনেই বিষপান স্ত্রীর

বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন স্ত্রী  © সংগৃহীত

প্রেম করে বিয়ে করার পর দাম্পত্য কলহ, নির্যাতনের অভিযোগ এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচার না পাওয়ার হতাশা—সব মিলিয়ে চরম মানসিক যন্ত্রণায় ফেনীতে আদালতের এজলাসেই বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন তাহমিনা আক্তার মোহনা নামে এক নারী বিচারপ্রার্থী।

আজ রবিবার (১০ মে) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ফুলগাজী আমলী আদালতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের জেরে ২০২৫ সালে ফুলগাজী উপজেলার চার সন্তানের জনক আকবর হোসেনকে বিয়ে করেন মোহনা। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। মোহনার দাবি, তিনি জানতেন না আকবরের আগের সংসারে স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের হাতে একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন মোহনা। রোববার ছিল মামলার ধার্য তারিখ। শুনানির সময় মোহনা ও তার স্বামী আকবর হোসেন উভয়ই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুনানি শেষে আদালত আকবর হোসেনকে জামিন দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে হঠাৎ আদালত কক্ষেই বিষপান করেন মোহনা। পরে তিনি ছটফট করতে শুরু করলে উপস্থিত আইনজীবী, পুলিশ ও আদালতের কর্মকর্তারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জহির উদ্দিন মামুন বলেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ, স্বামীর নির্যাতন ও বিচার না পাওয়ার হতাশা থেকেই মোহনা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করছি। এমন চরম সিদ্ধান্ত মানুষ এক দিনে নেন না। 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহনা বলেন, ‘দুই বছর প্রেমের সম্পর্কের পর আকবর আমাকে বিয়ে করেছে। বিয়ের আগে আমি জানতাম না তার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে মারধর ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আদালতের শরণাপন্ন হয়েও বিচার পাইনি। আদালতে ওঠার আগে আমি তাকে বলেছিলাম আজ বিষ খাব, দেখিয়েছিও। পরে আদালতে তার জামিনের পর বিষ খেয়ে ফেলেছি। ’

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রোকন উদ্দৌলা বলেন, ‘বিষক্রিয়ার লক্ষণ নিয়ে মোহনাকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ হিসেবে তার পাকস্থলী ওয়াশ করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মু. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি। সম্ভবত ওই নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে মামলা করেন। মামলার ধার্য্য তারিখে আদালত তার স্বামীকে জামিন দিলে সে এজলাসে বিষপান করে। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’