০৯ মে ২০২৬, ০৯:৫২

নেত্রকোনায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, অন্ধকারে দুই উপজেলা

কালবৈশাখীর দাপটে গাছ ভেঙে বসতঘরে, অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন আছমা খাতুন  © টিডিসি ফটো

নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলায় পরপর দুটি কালবৈশাখী ঝড় বয়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উচ্চমাত্রার ক্ষয়-ক্ষতি না হলেও আধাপাকা বসতঘরগুলো ভেঙে গেছে 

অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান আছমা খাতুনসহ বেশ কয়েকটি পরিবারের লোকজন। শুক্রবার (৮ মে) বিকাল ৪টা থেকে আধঘণ্টার ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায়।

দুর্গাপুর পৌরশহরের ৫নং ওয়ার্ডের পূর্ববাগিচাপাড়া এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ওই এলাকার আছমা খাতুনের ঘরের ওপর বড় একটি জামগাছ পড়ে পুরো ঘরটিই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বর্তমানে নাতি ও অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। তাৎক্ষণিক সহায়তার নগদ অর্থসহ শুকনো দিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ জামাল উদ্দিন মাস্টার। এ অসহায় পরিবারকে সহায়তা করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আছমা খাতুন বলেন, অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। স্বামীর মৃত্যু হয়েছে প্রায় চার বছর। প্রতিবেশীদের সহায়তায় মাটির দেয়াল দিয়ে তৈরি করা বসতঘরটিও ঝড়ে ভেঙে গেল। গাছ পড়ে ঘরের চালসহ ভিতরে থাকা সব আসবাবপত্র গাছের নিচে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়। আজ রাত কাটাব কিভাবে সে ভাবনায় করছি। 

স্থানীয় বাসিন্দা সেকুল মিয়া বলেন, আছমা খাতুন খুবই দরিদ্র একজন নারী। বিকালের ঝড়ে তার সব কিছুই ক্ষতি হয়ে গেল। ঘরের পাশে থাকা একটি বিশাল আকারের জামগাছ পড়ে তার ঘরটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বর্তমানে তার কেন সামর্থ্য নেই যে ঘরটি পুনরায় মেরামত করবে। তাকে যেন সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হয় এটা আমাদের এলাকাবাসীর দাবি।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি জেনেছি। গাছটি সরিয়ে নেওয়াসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনা খাবার বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করা হবে।

একই দিন সন্ধ্যায় কলমাকান্দায় মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিটের ঝড়ে শত শত গাছপালা উপড়ে পড়ে, ঘরবাড়ির চাল উড়ে যায় এবং পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কলমাকান্দা সদরসহ লেংগুড়া, পোগলা, রংছাতি, খারনৈ ও বড়খাপন ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।