০৮ মে ২০২৬, ২১:২৭

কোরবানির হাট মাতাবে বিশাল আকৃতির ‘জমিদার’

জমিদার  © টিডিসি ছবি

আসন্ন ঈদ-উল আজহাকে সামনে রেখে ভোলার খামারগুলোতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোরবানির হাটে ক্রেতাদের নজর কাড়তে এবার আলোচনায় এসেছে বিশাল আকৃতির দেশীয় গরু ‘জমিদার’। প্রায় ১৫ থেকে ১৬ মণ ওজনের এই গরুটি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মালেগো বাড়ির খামারি মো. আলী দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে গরু লালন-পালনের সঙ্গে যুক্ত। প্রতি বছরের মতো এবারও তিনি কোরবানির হাটের জন্য ছয়টি গরু প্রস্তুত করেছেন। গরুগুলোর নাম রাখা হয়েছে— জমিদার, বাহাদুর, বাদশা, রাজা, কালাচাঁদ ও লালচাঁদ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় গরুটি হলো ‘জমিদার’।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৬ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল আকৃতির গরুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষজন। খামারি মো. আলী জানান, প্রায় দুই বছর আগে তিনি গরুটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় কিনেছিলেন। এরপর দেশীয় খাবার ও প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গরুটিকে বড় করেছেন।

তিনি বলেন, জমিদার অন্য গরুর তুলনায় বেশি খাবার খায় বলেই তার এমন নাম রাখা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় তাকে প্রায় ২০ থেকে ২২ কেজি কাঁচা ঘাস, গম-ভূট্টা ভাঙা, খৈল ও ভূষিসহ সুষম দানাদার খাবার দেওয়া হয়।

খামারি আলীর দাবি, ভোলা সদর উপজেলায় এত বড় ও পরিপুষ্ট দেশীয় গরু খুব কমই দেখা যায়। তাই এবারের কোরবানির হাটে ‘জমিদার’ সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হবে বলে তিনি আশা করছেন। গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন বলেন, খামারিদের সবসময় দেশীয় পদ্ধতিতে ও নিরাপদ উপায়ে গরু মোটাতাজা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ‘জমিদার’ নামের গরুটিও দেশীয় খাবার খেয়ে মোটাতাজা হয়েছে। তবে কেউ যদি অবৈধ উপায়ে বা ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।