০৭ মে ২০২৬, ১২:৩৬

কৃষ্ণচূড়া-জারুলে রঙিন হয়ে উঠেছে বরগুনা নগরীর পথঘাট

সড়কে ধারে ফোটা জারুল ফুল  © টিডিসি

গ্রীষ্মের আগমনী বার্তায় রঙিন হয়ে উঠেছে বরগুনা শহরের পথঘাট। নগরীর বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়া ও জারুল ফুলে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ, যা মুগ্ধ করছে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষকেও।

শহরের বরগুনা সরকারি কলেজে দৃষ্টিনন্দন কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো এখন পূর্ণ প্রস্ফুটিত। এ ছাড়া ক্রোক ব্রিজ-সংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এবং মহিলা কলেজের সামনেও ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়া পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে। এর বাইরে শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও স্কুলের সামনেও দেখা মিলছে এই লাল রঙের ফুলের সমারোহ।

অন্যদিকে বেগুনি রঙের জারুলও পিছিয়ে নেই। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে, বরগুনা সরকারি কলেজে এবং বিভিন্ন স্কুল প্রাঙ্গণে জারুল ফুল ফুটে তৈরি করেছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।

বরগুনা সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কলেজে এখন কৃষ্ণচূড়া ও জারুল ফুল ফুটে পুরো ক্যাম্পাসটা অনেক সুন্দর লাগছে। সবাই এই সৌন্দর্য উপভোগ করছে এবং ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছে।’

ক্রোক এলাকার বাসিন্দা ইমাম বলেন, ‘শহরে প্রবেশ পথেই এই রঙিন কৃষ্ণচূড়া তার সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে করে শুধু স্থানীয় বাসিন্দাই নয়, দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষও মুগ্ধ হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায়, তারা এই রঙিন ফুলের সঙ্গে নিজেদের স্মৃতিগুলো ছবি তুলে ক্যামেরাবন্দী করছে।’

রিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, ‘প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করি। কৃষ্ণচূড়া দেখতে অনেক সুন্দর লাগে, যাত্রীরাও খুশি হয়।’

এ ছাড়া রঙিন কৃষ্ণচূড়া ও জারুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ বরগুনা শহরের সর্বস্তরের মানুষ। শহরের প্রবেশ পথ, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের মাঠ কিংবা ঘরের নিজ আঙিনায় প্রায়ই দেখা মিলছে এই ফুলের। এতে করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হচ্ছেন উৎফুল্ল এবং উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই রঙিন রূপ।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে,পরিকল্পিতভাবে রাস্তার পাশে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকায় এ ধরনের গাছ রোপণ করা হলে শহরের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি নগরবাসীর মানসিক প্রশান্তিও বাড়বে এবং শহর আরও বাসযোগ্য শহরে পরিণত হবে।

সব মিলিয়ে, কৃষ্ণচূড়া ও জারুলের রঙে সেজে ওঠা বরগুনা এখন যেন এক জীবন্ত ক্যানভাস, যেখানে প্রকৃতি নিজেই তার সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছে চারদিকে।