তামাক বাইন ও ইটভাটার ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত শিক্ষার্থীরা
তামাক বাইন ও ইটভাটার ধোঁয়ায় ঝিনাইদহের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। শহরের সার্কিট হাউস রোডে অবস্থিত ১২৬ নং গিলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘিরে তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ও ইটভাটার দূষণে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। এর প্রভাবে শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিয়মিত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে আবুল খায়ের গ্রুপের একটি তামাক বাইন (ক্রয় ও প্রক্রিয়াজাত) সেন্টার গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তামাক সংগ্রহ করে এখানে শুকানো ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে মেসার্স নাহার ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশকে আরও দূষিত করে তুলছে।
ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত বিষাক্ত বাতাসের মধ্যে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এ ধরনের দূষণের কারণে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই সীমানা ঘেঁষে তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম চলছে এবং এতে কোনো ধরনের পরিবেশগত নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে আবুল খায়ের গ্রুপের বাইন সেন্টারের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার কনক চন্দ্র সরকার বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। আপনি প্রথম জানালেন। তবে তিনি প্রতিষ্ঠানটির বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।’
চিকিৎসকদের মতে, তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না হলেও ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে মারাত্মক ক্ষতি করে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিথিলা ইসলাম জানান, তামাক পাতায় থাকা নিকোটিন ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে ‘গ্রিন টোব্যাকো সিকনেস’ সৃষ্টি করতে পারে। এতে বমি, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের দূষণ তাদের স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশ ব্যাহত করতে পারে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুস্তাসির রহমান জানান, আবুল খায়ের গ্রুপের বাইন সেন্টারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককেও অবহিত করা হবে।
এদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারেক হাসান বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।