সিকদার গ্রুপের এমডি রন হক সিকদার মারা গেছেন
আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সিকদার গ্রুপ–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রন হক সিকদার মারা গেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে ব্যবসায়ী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে দুবাইয়ের মেডিক্লিনিক পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রন হক সিকদার মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বোন সাবেক সংসদ সদস্য পারভীন হক সিকদারের ব্যক্তিগত সহকারী আবু সুফিয়ান।
সিকদার গ্রুপের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ কর্মকর্তা সুফিয়ান বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রন হক সিকদার মারা গেছেন।’ তবে মৃত্যুর কারণ বা আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের বরাতে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে লিভারজনিত জটিলতা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
রন হক সিকদার দেশের আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোর একটি সিকদার গ্রুপের শীর্ষ পর্যায়ে ছিলেন। ব্যাংকিং খাতে দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি আলোচনায় আসেন। তিনি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক পরিচালক ছিলেন।
গত কয়েক বছরে আর্থিক অনিয়ম, ঋণ কেলেঙ্কারি এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতার অভিযোগে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। ২০২৪ সালের এপ্রিলে তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় তার ভাই রিক হক সিকদারসহ মোট সাতজনকে আসামি করা হয়।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মোট ৭১ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের সীমার বাইরে বিপুল ডলার ব্যয় করে পরে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তা পরিশোধ করা হয়।
এর আগে ২০২০ সালের ১৯ মে এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গুলশান থানায় একটি মামলা করে, যেখানে রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদারের বিরুদ্ধে ব্যাংক কর্মকর্তাদের নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।
পরবর্তীতে আর্থিক অনিয়ম, মানিলন্ডারিং ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত ও মামলা চলমান ছিল। এসব আইনি জটিলতার মধ্যেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন বলে বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ধারণা করা হয়, তিনি থাইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছিলেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এরপর থেকেই তার বিদেশে অবস্থান ও স্বাস্থ্যগত সমস্যার বিষয়টি আলোচনায় আসে।