০৩ মে ২০২৬, ১৮:৪৭

বহির্নোঙরে জাহাজের সংঘর্ষ, জেটিতে আনতে বিলম্ব

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্যবাহী দুটি কনটেইনার জাহাজের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘মায়েরস্ক চট্টগ্রাম’ এবং দেশি এইচআর লাইনের ‘এইচআর তুরাগ’-এর মূল কাঠামো গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ফলে বিভিন্ন আমদানিকারকের প্রায় ২ হাজার ৮০০ একক (টিইইউস) পণ্যবাহী কনটেইনার আটকা পড়েছে। এতে নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য খালাস হওয়া নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

​বন্দর ও শিপিং সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুর থেকে আমদানিপণ্য নিয়ে জাহাজ দুটি গতকাল শুক্রবার (১ মে) চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে আসার শিডিউল ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ দুটির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সংঘর্ষের ফলে জাহাজ দুটির পানির নিচের অংশ এবং পার্শ্বদেশ দুমড়েমুচড়ে গেছে।

​শুক্রবার সকালে জাহাজ দুটিকে চালিয়ে জেটিতে আনতে গিয়েছিলেন বন্দরের দুই অভিজ্ঞ পাইলট ক্যাপ্টেন মো. আতাউল হাকিম সিদ্দিকী ও ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন।

কিন্তু জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখে তারা ঝুঁকি নিতে রাজি হননি।

​ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, আমরা জাহাজে ওঠার আগেই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। পরে জাহাজে উঠে দেখি দুটিরই মূল অংশ ক্ষতিগ্রস্ত। পানির নিচে কোনো সূক্ষ্ম ছিদ্র বা বড় ধরনের ঝুঁকি আছে কি না, তা কারিগরি তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।

এই অবস্থায় জাহাজগুলো জেটিতে আনতে গেলে চ্যানেলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। তাই আমরা ফিরে এসেছি।

​সংশ্লিষ্টরা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ যদি জেটিতে প্রবেশের সময় চ্যানেলের মাঝপথে বিকল হয়ে যায় বা কোনো কারণে ডুবে যায়, তবে কর্ণফুলী নদীর মোহনা অর্থাৎ বন্দরের প্রধান প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে সারা দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে কারিগরি ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত জাহাজ দুটিকে বহির্নোঙরেই রাখা হয়েছে।

​এদিকে ২৮০০ একক কনটেইনার আটকা পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমদানিকারকরা। সময়মতো কাঁচামাল বা পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। জাহাজ দুটির একটি বিশ্বের শীর্ষ শিপিং লাইন ‘মায়েরস্ক’-এর এবং অন্যটি সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর মালিকানাধীন এইচআর লাইনের।

​দুর্ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সরকারের নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মিলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে।

​নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ জালাল উদ্দিন গাজী বলেন, ‘আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় তদন্ত দল এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথেই কারিগরি তদন্ত শুরু হবে এবং জাহাজ দুটি চলাচলের উপযোগী কি না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ আমদানিপণ্য নিয়ে সাগরেই ভাসতে হচ্ছে জাহাজ দুটিকে।