০৩ মে ২০২৬, ১৪:১৯

যশোরে বোরো মৌসুমে ১৫,১৬৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য

এবার প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহমূল্য ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে  © সংগৃহীত

গত বোরো মৌসুমের তুলনায় এ বছর যশোরে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ মৌসুমে যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৩১ মেট্রিক টন। সেখানে চলতি ২০২৬ মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৬৬ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ এবার ৩ হাজার ৯৩৫ মেট্রিক টন বেশি ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানান, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখা থেকে ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি করা স্মারক অনুযায়ী, প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহমূল্য ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে ৩ মে থেকে এবং চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যশোর জেলার আট উপজেলায় মোট ১৫ হাজার ১৬৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮৬৫ মেট্রিক টন এবং শার্শা উপজেলায় ২ হাজার ৫৪৪ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া মনিরামপুরে ২ হাজার ২৯৩, ঝিকরগাছায় ২ হাজার ৩৪, চৌগাছায় ১ হাজার ৮৩১, বাঘারপাড়ায় ১ হাজার ৪৭০, কেশবপুরে ১ হাজার ৩৫১ এবং অভয়নগরে ৭৭৮ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে।

তিনি আর জানান, সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় একাধিক নির্দেশনা দিয়েছে। কৃষকের অ্যাপস ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকে “আগে আসলে আগে বিক্রি” ভিত্তিতে ধান সংগ্রহ করা হবে। তবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আগ্রহী কৃষকের সংখ্যা বেশি হলে উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করবে।

এ ছাড়া কোনো উপজেলায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা না থাকলেও গুদামে ধান বিক্রয়ের জন্য কৃষক উপস্থিত হলে তা গ্রহণ করে পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুরো কার্যক্রম অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা-২০১৭ এবং অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যশস্য সংগ্রহ, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ আদেশ-২০২২ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ধান সংগ্রহের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের ফলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং সরকারি খাদ্য মজুদ আরও শক্তিশালী হবে।