এক ঘণ্টার ব্যবধানে ঝরল ১০ প্রাণ
সিলেট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। রবিবার (৩ মে) ভোরে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ভোরে তেতলী বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাকটিতে কাঁঠাল বোঝাই ছিল এবং পিকআপে নির্মাণ শ্রমিকরা সুনামগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রিয়াজুল কবির জানান, সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও চারজন মারা যান। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি, তবে তারা সবাই নির্মাণ শ্রমিক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় আহত কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার পর ট্রাক ও পিকআপের চালক পালিয়ে গেছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধির তথ্য মতে, এলাকার নাচোল উপজেলার নাচোল-আড্ডা সড়কের বেনীপুর ও ভাদ্রৈ এলাকার মাঝামাঝি স্থানে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।
ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন নাচোল উপজেলার আজিপুর গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে মো. সোহাগ হোসেন (১৭) এবং শিবগঞ্জ উপজেলার বালুটুঙ্গী গ্রামের মো. মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (২৭)। তারা সম্পর্কে দুলাভাই-শ্যালক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে থাকা দুইজন ভোলামোড় এলাকা থেকে ধানসুরার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি নাইট কোচকে ওভারটেক করার চেষ্টা করলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই আরোহীর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক গাড়ি রেখে পালিয়ে যান। নিহতদের মধ্যে রবিউল ইসলাম মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। তিনি নওগাঁ জেলায় কর্মরত ছিলেন এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে শ্যালককে নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন।
নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।