ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডবে উপকূলীয় লবণ শিল্পে বড় বিপর্যয়, উৎপাদন ব্যাহত
কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূলে হঠাৎ হানা দেওয়া কালবৈশাখি ঝড় ও ভারী বর্ষণে দেশের লবণ শিল্পে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে।
গত দুই দিনের বৈরী আবহাওয়ায় উপকূলের প্রায় ৬৮ হাজার একর লবণ মাঠ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে, যার ফলে অন্তত ১ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।
চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া কিছুটা বৈরী থাকলেও মাঝে তীব্র দাবদাহের কারণে উৎপাদনে বেশ গতি এসেছিল। উপকূলীয় মাঠগুলোতে দৈনিক লবণের উৎপাদন ১২ হাজার মেট্রিক টন থেকে বেড়ে রেকর্ড ৩২ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছেছিল।
হঠাৎ আসা কালবৈশাখি সেই স্বাভাবিক গতিকে থামিয়ে দিয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার আঘাতে লবণ মাঠের ‘বেড’ বা ‘কাই’ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে এবং মাঠে জমানো বিপুল পরিমাণ লবণ পানিতে গলে গেছে। অনেক এলাকায় পানি জমে থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা বলেন, ঝড়ের পর এখন তারা মাঠে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন এবং ছিঁড়ে যাওয়া ত্রিপল মেরামতের চেষ্টা করছেন। তবে নতুন করে উৎপাদন শুরু করতে হলে তাদের বড় অঙ্কের বাড়তি অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে, যা অনেকের জন্যই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। অনেক চাষির কয়েক একর জমির পুরো লবণই বৃষ্টির পানিতে মিশে গেছে।
কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের তথ্যমতে, এবারের এই দুর্যোগে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে উৎপাদনে। বৃষ্টির কারণে টানা ১২ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায়, দৈনিক গড়ে ২৫ হাজার মেট্রিক টন হিসেবে মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন লবণের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যদিও হালকা বৃষ্টিতে লবণের খুব বেশি ক্ষতি হয় না, কিন্তু এবারের আকস্মিক ভারী বর্ষণ হারভেস্টের জন্য তৈরি লবণের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমান এই বৈরী পরিস্থিতি আরও দুই-তিন দিন স্থায়ী হতে পারে। আগামী ৫ মে থেকে বৃষ্টিপাত কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ৬ মে থেকে চাষিরা পুনরায় লবণ উৎপাদন শুরু করতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
১৪ মে থেকে পুনরায় তীব্র দাবদাহ শুরু হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। সেই সময় আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তবে দ্রুত উৎপাদন বাড়িয়ে বর্তমান ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আপাতত প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনায় উপকূলীয় লবণ চাষিদের ভবিষ্যৎ এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।