৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:০৫

ডুবে গেল কৃষকের সোনালি স্বপ্ন, পানির নিচে শত শত হেক্টর ফসলি জমি

তলিয়ে যাওয়া বোরো ধান কাটছেন কৃষক   © টিডিসি ফটো

টানা তিনদিনের ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ৯০০ হেক্টর জমি, হাওরপাড়ে দাঁড়িয়ে ডুবে যাওয়া স্বপ্ন দেখছেন কৃষক আর প্রকাশ করছেন একরাশ হতাশা, কেউ কেউ কাঁদছেন নীরবে। 

টানা বর্ষণে কৃষক হাওরপাড়ে দাঁড়িয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখছেন নিজেদের সর্বস্বান্ত হওয়ার দৃশ্য। প্রতিটি ঢেউ যেন তাদের বুকের ওপর এসে আছড়ে পড়ছে কষ্টের পাহাড় হয়ে। ঘটনাটি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার। 

বৃহস্পতিবার (৩০এপ্রিল) কেন্দুয়া উপজেলার জালিয়ার হাওর, কালিয়াইন বিল, আবদাইল হাওর, গোদিয়ার হাওর, বগাজান বিল,
গোগ, জালালপুর,বিষ্ণপুর হাওরসহ বেশ কয়েকটি হাওরর খোঁজ নিয়ে ও ঘুরে দেখা যায় পাকা, আধাপাকা ধানের ওপর অথৈই পানি। এরই মাঝে কেউ কেউ কোমর ও বুক পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। 

জানতে চাইলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে তারা জানান, পানি প্রচুর ঠান্ডা, বেশিক্ষণ পানিতে থাকা যায় না। দেড় হাজার টাকা কাঠা দিয়েও ধানকাটার  কামলা (শ্রমিক) পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের এখন ‘নয়নভাগা’র উপক্রম চলছে।

সরাপাড়া গ্রামের কৃষক হায়দার খান, গোগ গ্রামের মোহাম্মদ আলী, কাউরাট গ্রামের তুষার আহমেদ, কান্দিউড়া গ্রামের হোসেন মিয়া জানান, ক্ষেতে ধান সবেমাত্র পাকতে শুরু করেছে, কোনো কোনো ক্ষেত কাটাও লেগেছিল এরই মধ্যে গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত টানা ৩ দিনের অতি বৃষ্টিতে সব ক্ষেত তলিয়ে গেছে। যেগুলো উঁচুতে ছিল সেগুলোও কাটা যাচ্ছিল না শ্রমিকদের পা ধেবে যায় বলে। এখন তো প্রায় সব জমিনই পানির নিচে। একটু নিচু জমিগুলোর ধানগাছ পানির ২/৩ ফুট নিচে রয়েছে। কি করে কি হবে কিছুই বুঝতে পারছি না। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, কেন্দুয়া উপজেলায় ২০ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিলের টানা আকস্মিক ভারি বৃষ্টির পানিতে ৮৭৩ হেক্টর ধানক্ষেত ও সবজি তলিয়ে গেছে। এতে বহু কৃষক  ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। 

অফিস তথ্য মতে আউশ বীজতলা ০.৪৫,বোরোধন হাওরে নিমজ্জিত ৪৪৫ হেক্টর ও নন হাওড়ে নিমজ্জিত ৪১৫ হেক্টর,পাট ৭ হেক্টর, সবজি ৫.৫ হেক্টরসহ মোট ৮৭৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
 
কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জল সাহা বলেন, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে সবকয়টি ইউনিয়নই কম বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এরই মধ্যে চিরাং, পাইকুড়া ইউনিয়ন পরিদর্শন করেছি। আজ বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিদর্শন করবো। পরিদর্শন শেষে ২/৩দিনের মধ্যেই তালিকা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের জন্য যে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন তা যথাযথ বাস্তবায়নে কাজ করা হবে।