নেত্রকোনার হাওরে শ্রমিক ও হারভেস্টারের সংকট, ধান কাটা নিয়ে বিপাকে কৃষক
হাওর-অধ্যুষিত জেলা নেত্রকোনায় কৃষিশ্রমিক ও তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় হারভেস্টার মেশিন দিয়ে বোরো ধান কাটা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা। জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় ধান কাটার হারভেস্টার মেশিনের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে একদিকে যেমন বেড়েছে খরচ, অন্যদিকে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে হাওরবাসীর।
জেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ধানই কৃষকদের একমাত্র প্রধান ফসল। এই একটি ফসলের ওপর নির্ভর করেই চলে তাদের সারা বছরের জীবিকা। তবে চলতি মৌসুমে জ্বালানি সংকটের কারণে সেই ফসল ঘরে তোলা নিয়েই দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল, শুভ মিয়া ও কামাল মিয়ার অভিযোগ, গত বছর যেখানে প্রতি বিঘা জমির ধান হারভেস্টার দিয়ে কাটতে খরচ হতো প্রায় ৫০০ টাকা, সেখানে এবার সেই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকায়। অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে অনেক কৃষকই সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না।
সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় হারভেস্টার মেশিনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে ধান কাটার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে, পাশাপাশি শ্রমিক সংকটও প্রকট হয়ে উঠছে।
হারভেস্টার চালক কাঞ্চন মিয়া ও মালিক রতন ইসলাম জানান, একটি মেশিন সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে তারা পাচ্ছেন মাত্র ৫০ লিটার করে জ্বালানি, যা দিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক মেশিনই বন্ধ হয়ে পড়েছে।
এদিকে হাওরের কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ধান কাটা না গেলে অকাল বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ফসলহানির ঝুঁকি রয়েছে। তাই তারা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলেই রয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমি।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. চন্দন কুমার মহাপাত্র জানান, জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।