মিড ডে মিলে ‘পচা’ বনরুটি, ডেইলি ক্যাম্পাসে সংবাদ প্রকাশের পর সরবরাহকারীকে শোকজ
ফেনীর সোনাগাজীর কুঠিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় ছত্রাকযুক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত বনরুটি সরবরাহের ঘটনা নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসসহ একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেশ পল্লী লিমিটেডকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম তাহেরুল ইসলাম।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল কুঠিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেশ পল্লী কর্তৃক ১৫১ প্যাকেট বনরুটি সরবরাহ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের সময় দেখা যায়, অধিকাংশ বনরুটি দুর্গন্ধযুক্ত এবং অন্তত ১৭টি রুটির ভেতরে কালচে ছত্রাকের দাগ রয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়।
এর আগে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম তাহেরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সরবরাহকৃত খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে কোনো ত্রুটি, সমস্যা বা অসংগতি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সমপরিমাণ মানসম্মত বনরুটি, সিদ্ধ ডিম ও কলা দিয়ে পরিবর্তনের নির্দেশনা কার্যাদেশে স্পষ্টভাবে ছিল, কিন্তু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সে অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
নোটিশে আরও বলা হয়, এমন কার্যক্রমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অসুস্থতা বা জীবনহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কেন এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তার সন্তোষজনক লিখিত জবাব আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
শোকজ নোটিশটি দেশ পল্লী লিমিটেডের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর শাহ নেওয়াজের কাছে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম তাহেরুল ইসলাম বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর পিডি অফিসের নির্দেশ এই শোকজ করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। শিশুদের খাবারের ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা বরদাশত করা হবে না।’
উল্লেখ্য, সোমবার বিদ্যালয়ের ১৫১ শিক্ষার্থীর জন্য সরবরাহ করা বনরুটির মধ্যে ছত্রাক ধরা পড়ার ঘটনা নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসসহ একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়।