০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩৬

ছাত্রীদের ফুটবল খেলার ভিডিও ধারণ নিয়ে বিএনপি নেতার ছেলের তুলকালাম কাণ্ড

সরোয়ার হোসেন নয়নকে আটক করে থানায় নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ  © টিডিসি

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের খেলার ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড করে মাদকাসক্ত সরোয়ার হোসেন নয়ন। তার তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী ও স্কুল শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চড়ইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত সরোয়ার হোসেন নয়ন হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কফিল উদ্দিনের ছেলে। তার বাড়ি ওই ইউনিয়নের চড়ইকোল পূর্বপাড়া গ্রামে।

জানা গেছে, হরিপুর ইউনিয়নের চড়ইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলছিল নারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় ভিডিও ধারণ করতে যান সরোয়ার হোসেন নয়ন। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিষেধ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি আর খুড় নিয়ে হামলা চালায় শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে ঠেকাতে গিয়ে আহত হন কয়েকজন এলাকাবাসীও।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা কফিল উদ্দিনের ছেলে নয়ন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। এক পর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তাকে বাড়িতে ঠিকমতো দেখভাল না করায় মাঝেমধ্যেই বাড়ির বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালায় ও লাঞ্ছিত করে। 

স্কুলের সহকারি শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, ‘মেয়েরা তাকে ভিডিও করতে নিষেধ করেছিল, আমরাও তাকে নিষেধ করি এবং স্কুল থেকে চলে যেতে বলি। তখন সে প্রথমে লাঠি দিয়ে হামলার চেষ্টা করে। তাকে বাধা দেয়ায় পরে সে খুর, কেচি, শিকল নিয়ে এসে আবারও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। আমরা শিক্ষার্থীদের স্কুলের ভেতরে রেখে প্রধান ফটক আটকে দিই। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন এসে তাকে থামানোর চেষ্টা করলে তাদের ওপরও হামলা করে নয়ন।

এ ঘটনায় কয়েকজন মেয়ে শিক্ষার্থী আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে অভিভাবকদের ডেকে এনে মেয়েদের তাদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা তাৎক্ষনিক থানার ওসি ও ইউএনও সাহেবকে অবহিত করি।’

এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‌‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত নয়নকে আটক করি। ভুক্তভোগীদের এজাহার দিতে বলা হয়েছে। এজাহার দিলে মামলা নথিভুক্ত করে সেই মামলায় নয়নকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

অভিযুক্ত নয়নের বাবা বিএনপি নেতা কফিল উদ্দিন তার প্রতিপক্ষের ওপর দায় চাপিয়ে বলেন, ‘ছেলেকে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে বেশিদিন ঠিকমতো লেখাপাড়া করতে পারল না। আমার এলাকায় তো প্রতিপক্ষের অভাব নেই। তারা আমার ছেলেকে গাঁজা, মদসহ অন্যান্য মাদক খাইয়ে এই অবস্থা করে দিয়েছে। এখন আর ছেলেকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। আমি অতিষ্ঠ, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আইনগতভাবে যেটা হয় সেটাই হোক।’