০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৮

বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

নিহত বাংলাদেশি যুবক   © সংগৃহীত

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আলী হোসেন (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। 

বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে ভারতের ভেতরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন ওই এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। ঘটনার পর সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধবলগুড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫-এস সংলগ্ন শূন্য লাইন থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভারতের ভেতরে ১৫৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের সাতগ্রাম ক্যাম্প এলাকায় রাত ২টা ৫০ মিনিট ও ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে দুই দফায় গুলির শব্দ শোনা যায়। বিজিবিকে দেওয়া বিএসএফের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরে ৭-৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় সীমান্তে তারকাঁটার বেড়া কাটার উদ্দেশ্যে প্রবেশ করলে বিএসএফ সদস্যরা প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে বিএসএফের সঙ্গে ওই দলের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি শুরু হলে বিএসএফের গুলিতে আলী হোসেন ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হন।

তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম জানান, গুলিবিদ্ধ আলী হোসেনকে বিএসএফ সদস্যরা নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ভারতের একটি হাসপাতালে পাঠালে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ ভারতীয় বিএসএফ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। এ ঘটনার পর সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে মোবাইলে যোগাযোগ হয়। 

বিজিবির সূত্রমতে, অজ্ঞাতনামা কয়েকজন গরু চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সেখানে গেলে বিএসএফ টহল দল কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়।

ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট সীমান্তের আশপাশে বিজিবি ও বিএসএফের টহল দলের অবস্থান জোরদার করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে স্পট মিটিং বা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম বলেন, ‘ঘটনার বিস্তারিত যাচাই-বাছাই ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে স্পট মিটিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ এ বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।