০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২১

যশোরে শতাধিক বহুতল ভবন অতি ঝুঁকিপূর্ণ

যশোর  © টিডিসি সম্পাদিত

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের দিন যশোর শহরের চিত্রা মোড়ে অবস্থিত জাবির হোটেল ইন্টারন্যাশনালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৪ জন প্রাণ হারান। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নির্মিত সেই ভবনে ছিল না কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা জরুরি বহির্গমন পথ।

সেই ভয়াল ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও যশোর শহরের অগ্নিনিরাপত্তা পরিস্থিতির তেমন কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। সরকারি তথ্যমতে, জেলা শহরে এখনো শতাধিক বহুতল ভবন অগ্নিকাণ্ডের জন্য ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। এই তালিকায় সরকারি-বেসরকারি অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেশ কিছু আবাসিক ভবন ও হাসপাতালও রয়েছে।

শহরের উমেশচন্দ্র লেনের মরিয়ম টাওয়ারের মতো বহুতল ভবনগুলোর চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কাগজে-কলমে এগুলো আবাসিক হলেও বাস্তবে সেখানে চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এসব ভবনে রাখা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে এবং অধিকাংশ ভবনেই নেই কোনো ফায়ার এক্সিট সিঁড়ি। এছাড়া যশোর বড়বাজার, হাটচান্নি রোড ও আলুপট্টিসহ প্রধান বাণিজ্যিক এলাকাগুলো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠায় সেখানে প্রায়ই আগুনের ঘটনা ঘটছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগুন লাগলে নেভানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানির কোনো নিকটস্থ উৎস নেই। পাশের ভৈরব নদ বা শহরের লালদীঘি থেকে পানি সংগ্রহ করতে ফায়ার সার্ভিসকে ব্যাপক বেগ পেতে হয়। সরু রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িগুলো দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেও সমস্যায় পড়ে।

সচেতন নাগরিক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের মতে, ক্ষমতার দম্ভে এবং দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে ওঠা ভবনগুলো এখন সাধারণ মানুষের প্রাণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। নকশা অনুমোদনের সময় অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি দেখার দায়িত্ব পৌরসভার হলেও, অনেক ক্ষেত্রে অনিয়মকে পাশ কাটিয়ে ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়। যদিও যশোর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোরাদ আলী জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, বিশাল এলাকায় সীমিত লোকবল দিয়ে তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, পানির উৎস ঠিক রাখার কাজ চলছে এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে বড় ধরনের অভিযানে নামবেন তারা।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, চলতি বছরেই যশোর সদরে ৩০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিপুল টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরু রাস্তা, পানির তীব্র অভাব এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার কারণে উদ্ধারকাজ ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। জাবির ট্র্যাজেডির মতো হৃদয়বিদারক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং যশোরবাসীকে নিরাপদ রাখতে এখনই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা