০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৪১

২১ দিন পর বাড়ি পৌঁছাল সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী মামুনের মরদেহ

নিহত প্রবাসী মামুনের মরদেহ  © টিডিসি ফটো

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি আবদুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ ২১ দিন পর তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। আজ সোমবার সকালে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে তার মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

সেখানে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর দুপুর ১টার দিকে মরদেহ ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
নিহত মামুন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের বাসিন্দা শহিদ সওদাগরের ছেলে। তিনি এক পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন।
গত ৮ মার্চ সৌদি আরবের আল-খারজ এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মামুন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। সে সময় তার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে রিয়াদের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আজ সকাল থেকেই ভরভরা গ্রামে মামুনের বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। দীর্ঘ দিন পর প্রিয়জনকে ফিরে পেলেও তাকে জীবিত না পাওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়া সহ  স্থানীয় মসজিদ থেকে খাটিয়া এনে জানাজা ও দাফনের সব প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করে রাখা হয়। আসরের নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে দীর্ঘদিন আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মামুন। সর্বশেষ ৫ বছর আগে তিনি ছুটি কাটাতে দেশে এসেছিলেন।
নিহতের বাবা শহিদ সওদাগর কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ছেলে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকে। এবারের ঈদের পর তার বাড়ি আসার কথা ছিল। সে আসলো ঠিকই, কিন্তু লাশ হয়ে।
নিহতের চাচা গুলজার সওদাগর জানান, মামুন ১৫ বছর ধরে সৌদি আরবে ছিলেন। এবার দেশে ফিরে তার নতুন বাড়ি করার কথা ছিল। তিনি আরও বলেন, মরদেহটি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। তবে এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।