যশোরে স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় ৪০৬ প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা
যশোরের তিন উপজেলায় স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় এসেছে ৪০৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৯ হাজার ৯১ শিক্ষার্থী। এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে পাঁচ দিন পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে সিদ্ধ ডিম, বনরুটি, বিস্কুট, কলা ও মৌসুমি ফল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা এবং পুষ্টি উন্নয়নে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শুরু হয়। দেশের প্রথম পর্যায়ে ১৫০টি উপজেলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দুধ প্রদানের মাধ্যমে গত ১৭ নভেম্বর যশোরের অভয়নগর, কেশবপুর ও ঝিকরগাছা উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রতি রবিবার ১২০ গ্রাম ওজনের বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম, সোমবার বনরুটি এবং ২০০ গ্রাম ইউএইচটি দুধ, মঙ্গলবার ৭৫ গ্রাম ওজনের ফর্টিফায়েড বিস্কুট এবং কলা বা স্থানীয় মৌসুমি ফল, বুধবার এবং বৃহস্পতিবারে বনরুটি এবং সিদ্ধ ডিম প্রদান করা হচ্ছে।
যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যশোরের অভয়নগর, কেশবপুর ও ঝিকরগাছার ৪০৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কুল ফিডিং কার্যক্রম গত ১৭ নভেম্বর শুরু হয়। পুষ্টিকর খাবারগুলোর মধ্যে গুঁড়া দুধ সরবরাহ করছে আকিজ কোম্পানি আর অন্যান্য খাবার সরবরাহ করছে ‘সুশীলন’ নামে একটি এনজিও। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ লটারির মাধ্যমে এ দুটি প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করেছে। যশোরে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভয়নগর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ওলিউর রহমান জানান, অভয়নগর উপজলার ১১৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার ৩৭৪ শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং আওতায় এসেছে। এর মধ্যে ৪ প্লাস ২৬৩ জন, প্রাক-প্রাথমিক ২ হাজার ১২০, প্রথম শ্রেণির ২ হাজার ৪৫৩, দ্বিতীয় শ্রেণির ২ হাজার ৬১২, তৃতীয় শ্রেণির ২ হাজার ৭৩০, চতুর্থ শ্রেণির ২ হাজার ৬৭৭ ও পঞ্চম শ্রেণি ২ হাজার ৫১৯ জন রয়েছে।
কেশবপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, কেশবপুর উপজেলার ১৫৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৯ হাজার ৩০১ শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং এ কার্যক্রমে আওতায় আনা হয়েছে। তবে এ কার্যক্রম শুরু করার আগে ১৫৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২১ হাজার ৩১৭ শিক্ষার্থীর উপস্থিতির রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। বার্ষিক পরীক্ষার পর স্কুল বন্ধ এবং নতুন বছরের বই পাবার পর রমজানের ছুটির পর কয়েক দিন হলো ক্লাস শুরু হয়েছে। এখন প্রতিদিন স্কুল ফিডিং আওতায় পুষ্টিকর খাবার প্রদান করা হচ্ছে।
ঝিকরগাছা উপজেলার শিক্ষা অফিসার অলিয়ার রহমান জানান, ঝিকরগাছার ১৩১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার ৪৩০ শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় এসেছে। এ উপজেলার দুধ বিতরণ শুরু হয় ১৭ নভেম্বর এবং বাকি খাদ্য প্রদান করা হচ্ছে ২৯ মার্চ থেকে।
কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল গ্রামের বাসিন্দা শামছুর নাহার জানান, তার মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার কারণে তার এলাকায় অনেক শিশু স্কুল নিয়মিত যাতায়াত করছে। এ পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত করার দাবি জানান তিনি।
অভয়নগর উপজেলার বুইকরা এলাকার দোকানদার রইছুল ইসলাম জানান, তাদের প্রাইমারি স্কুলে শিশুদের খাবার দেওয়া হচ্ছে। আগে যেসব শিশুরা স্কুলে যেতে চাইতো না। এখন তারা প্রতিনিয়ত যাচ্ছে। সরকারের উচিত, দেশের সব স্কুলে এ পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার। তাহলে শিশুরা সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে এবং কেউ পড়াশোনা থেকে হারিয়ে যাবে না।
ঝিকরগাছার কায়েমখোলা এলাকার তানিয়া সুলতানা নামে এক অভিভাবক স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি তদারকির অভাবে এই কার্যক্রম যাতে ঝিমিয়ে না পড়ে সে বিষয়টি খেয়াল রাখার তাগাদা দেন।
জেলা প্রাথমিক জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আলমগীর হোসেন জানান, গত ১৯ নভেম্বর যশোরে তিনটি উপজেলার স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি দেখতে পেয়েছেন, এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কমছে না।
তিনি আরও জানান, কোনো স্কুলে খাবার ঠিকমতো না পৌঁছুলে বা খাবারের মান নিম্ন হলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষককে উপজেলা শিক্ষা অফিসে জানাতে বলা হয়েছে। প্রতিদিনের রিপোর্ট প্রতিদিন জানাতে হবে। তাহলে নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।