মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সামরিক পরিকল্পনার স্মৃতি, তেলিয়াপাড়া দিবস পালিত
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস শনিবার (৪ এপ্রিল) বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের বাংলোতে সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে বেলা ১১টায় পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে দুপুরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তেলিয়াপাড়া থেকেই মুক্তিযুদ্ধের সংগঠিত কার্যক্রমের সূচনা হয়। তিনি দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনা এবং সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালিত হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখান থেকেই দেশকে বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, সে সময় শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে বন্দি থাকায় তার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়নি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি এবং তা বিকৃত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ আলহাজ জি কে গউছ, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হোসেন জীবন, চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ, পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদসহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিক।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা-বাগানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নির্ধারণ এবং দেশকে বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।