আনোয়ারায় হামের উপসর্গে ভর্তি নেই কেউ, বাড়ি বাড়ি খোঁজ স্বাস্থ্যকর্মীদের
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। তবে সম্ভাব্য সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগ মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়িয়েছে। টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের খোঁজ নিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, হামের উপসর্গ সন্দেহে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে তাদের কারও শারীরিক অবস্থা গুরুতর নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বহিঃবিভাগে শিশুরোগীদের ভিড়। জ্বর, সর্দি-কাশি ও ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় চিকিৎসা নিতে অভিভাবকদের সঙ্গে শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। উপসর্গ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কয়েকজন শিশুকে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হাম প্রতিরোধ ও শনাক্তে স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য সহকারী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ইপিআই কর্মীসহ মোট ৪৫ জন মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। সন্দেহজনক রোগী পাওয়া গেলে বয়সভিত্তিক ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেওয়া ও নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হামের উপসর্গ আছে কি না, তা যাচাই এবং অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক শিশুর মা রুমানা আক্তার বলেন, ছেলের দুই দিন ধরে জ্বর ও সর্দি ছিল। হাম নিয়ে আতঙ্ক ছিল। ডাক্তার দেখানোর পর বলেছেন চিন্তার কিছু নেই, তবে সতর্ক থাকতে বলেছেন।
আরেক অভিভাবক মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়িতে এসে বাচ্চার টিকার খোঁজ নিয়েছেন। এতে আমরা কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়েছি।’
বহিঃবিভাগের চিকিৎসক ডা. নিঝুম বলেন, আজ ৩-৪ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ সন্দেহ হওয়ায় তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। সন্দেহভাজন পাঁচজনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়।
তিনি আরও বলেন, সকাল থেকে অনেক রোগী আসছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নিশ্চিত হয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জ্বর, চোখ লাল হওয়া, সর্দি-কাশি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।