চরফ্যাশনে চীনাবাদামের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
ভোলার চরফ্যাশনে এবার চীনাবাদামের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। পুষ্টিগুণে ভরপুর, প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ এ ফসলের ব্যাপক আবাদ হয়েছে উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নে। তবে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনিয়নগুলোয়। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ চীনাবাদামের সমারোহ এখন যেন প্রকৃতির এক মনোমুগ্ধকর রূপ।
কৃষকরা জানান, আর কয়েক দিন পরই শুরু হবে বাদাম তোলার ধুম। ফলন ভালো হওয়ায় তারা এখন ব্যস্ত ঘরে তোলার প্রস্তুতি ও বাজারজাতের পরিকল্পনায়।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চরফ্যাশন উপজেলায় চীনাবাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর। তবে তা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে, যা বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত বছর লাভজনক হওয়ায় এ বছর কৃষকরা আরও বেশি আগ্রহ নিয়ে বাদাম চাষে ঝুঁকেছেন।
উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের কারণে এবার ফলনও আশাব্যঞ্জক। প্রতি হেক্টরে ২ দশমিক ৫ থেকে ৩ মেট্রিক টন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন চীনাবাদাম উৎপাদিত হতে পারে। চাষ হওয়া জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-১, বিনা চীনাবাদাম-৪, বারি চীনাবাদাম-৮সহ বেশ কয়েকটি উচ্চ ফলনশীল ও স্থানীয় জাত।
উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নে বাদামের চাষ হলেও তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী নুরাবাদ, নীলকমল, আহমেদপুর, চরকলমি ও মুজিবনগর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। উর্বর পলি ও দোআঁশ মাটি, অনুকূল আবহাওয়া এবং তুলনামূলক কম উৎপাদন খরচ এই অঞ্চলে চীনাবাদাম চাষকে করেছে আরও লাভজনক।
তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকার কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এবার মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আমরা প্রতিবছর বাদাম বিক্রি করে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আয় করি। এই আয়েই সংসার চলে। সরকারি সহযোগিতা আরও বাড়লে লাভও বাড়বে।’
মুজিবনগর ইউনিয়নের কৃষক আবু ইউসুফ জানান, তিনি ১০ একর জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। অতিবৃষ্টি, পোকামাকড় বা অন্য কোনো সমস্যা না হলে সার, বীজ ও শ্রমিকের খরচ বাদ দিয়েও কয়েক লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।
চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, বরিশাল বিভাগের মধ্যে চরফ্যাশনে সবচেয়ে বেশি চীনাবাদাম চাষ হয়। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া এ ফসলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। উৎপাদন খরচ কম এবং বাজারমূল্য ভালো হওয়ায় কৃষকরা এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, চলতি বছর প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় দুই হাজার কৃষককে উন্নতমানের বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও বালাই দমনে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকায় এবার বাম্পার ফলনের ব্যাপারে কৃষি বিভাগ আশাবাদী।
এদিকে চরফ্যাশন প্রেসক্লাবের সহসভাপতি কামাল মিয়াজী বলেন, তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠের দৃশ্য এখন দারুণ উপভোগ্য। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এ সময় এলাকাটি ভ্রমণের উপযুক্ত, যেখানে সবুজের সমারোহ মন ভরিয়ে দেয়।