০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৩৫

এবার বন্ধ ফ্যাক্টরি: নবীন ফ্যাশন বলছে— ছাত্রদলের চাঁদাবাজি, পুলিশের ভাষ্য পরিবেশগত সমস্যা

নবীন ফ্যাশন শো রুম ও ফ্যাক্টরির চিত্র  © সংগৃহীত

ঢাকার কেরাণীগঞ্জের ফ্যাক্টরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে আলোচিত পোশাক প্রতিষ্ঠান নবীন ফ্যাশন। বুধবার (১ এপ্রিল) নবীন ফ্যাশনের ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মাসিক ৩ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়ায় অভিযোগ তুলে ফ্যাক্টরিটি বন্ধ ঘোষণা করে প্রতিষ্ঠানটি। যদিও পুলিশ বলছে, আবাসিক এলাকায় ফ্যাক্টরি হওয়ায় সেটি বন্ধ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ৪০ জন কর্মচারীও সেখানে কাজ করতে চাচ্ছিল না বলে জানায় পুলিশ।

বুধবার বিকালে বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক পেজে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দেয় নবীন ফ্যাশন। স্ট্যাটাসে বলা হয়, যারা কেরানীগঞ্জ ফ্যাক্টরিতে নতুন নিয়োগের পরে ছাত্রদলের হামলা ও হত্যা হুমকির শিকার হয়েছেন। আজ রাতে ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হবে। এই ভয়ে যারা চাকরি থেকে চলে যাচ্ছেন তাদের সবাইকে নবীন পরিবার ভালোবাসেন এবং শিগগিরই তাদের জন্য কাজের ব্যবস্থা করবে বলে জানানো হয়। ৩ লাখ টাকা মাসিক চাঁদা চাওয়া ছাত্রদলের এই জুলুমের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহর কাছে কর্মচারীদের দোয়া করতে বলে নবীন ফ্যাশন। 

প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুক পোস্টে আরও জানায়, গত প্রায় আড়াই বছর ধরে এই ফ্যাক্টরি চলমান রয়েছে। প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের নেতাদের চাঁদা দেওয়া হতো এবং ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি দলীয় লোকজনকে চাঁদা দিয়ে প্রতিষ্ঠান চলমান রাখা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন শেষে তারা ক্ষমতা পেয়ে এখন প্রতি মাসে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে, যা দিতে না পারায় এলাকার যে সকল কর্মচারীরা কাজ করতেন তাদেরকে হত্যার হুমকি দিয়ে ফ্যাক্টরি থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেয় এবং ফ্যাক্টরির সুপারভাইজার শাহআলমকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়। 

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন বিদেশ যাওয়ার সংবাদ প্রচারের পর গত ২৫ মার্চ সকাল ৯টায় এলাকার ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ফ্যাক্টরিতে লুটপাট করতে চায়। সে সময় চাইনিজ ইঞ্জিনিয়ার সামনে থাকায় এবং ভিডিও ধারণ করার কারণে তারা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। 

গত ৫দিন পুলিশের পক্ষ থেকে যথেষ্ঠ সহযোগিতা পাওয়া কথা জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, পুলিশ অসহায় হয়ে ফ্যাক্টরির ভেতর থাকা অবস্থায় চাঁদাবাজরা ফ্যাক্টরিতে বেশ কয়েকবার হামলা দেয়। সম্পূর্ণ লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করার পরও এরকম চাঁদাবাজদের কারণে নবীন ফ্যাশনের প্রায় ৯০ জন কর্মচারীর এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করতে হলো। কারণ কোম্পানির অর্থের চেয়ে জীবন মহামূল্যবান। আল্লাহ পাক এই জুলুমকারীদের থেকে সবাইকে হেফাজত করুন। কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় গিয়েও সমাধান সম্ভব হয়নি বলে ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। 

নবীন ফ্যাশনের ফেসবুক স্ট্যাটাস

পুরে আরেকটি স্ট্যাটাসটি বাংলাদেশ আর্মিকে ট্যাগ করে প্রতিষ্ঠানটির আবেদন, ‘দয়া করে Bangladesh Army আমাদের কর্মীদের নিরাপদে ফ্যাক্টরি থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিন সকলেই অনেক আতংকিত’।

যদিও এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ফ্যাক্টরিটি আবাসিক এলাকায় হওয়ার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা স্থানীয় এমপি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবর একটি আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতেই গতকাল পরিবেশ অধিদপ্তর ফ্যাক্টরিটি পরিদর্শনে আসে এবং তাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চায়। যেসব কাগজ মিস রয়েছে, সেগুলো নিয়ে দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলে। এরপরই আজ নবীন ফ্যাশন কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাক্টরিটিতে প্রায় ৪০ জন কর্মচারী কাজ করতেন। তারাও এখানে কাজ করতে চাচ্ছিল না। পরিবেশ দূষণের কারণে ফ্যাক্টরিটি  আবাসিক এলাকায় থাকুক স্থানীয়রাও চাচ্ছিল না। আমরা প্রতিদিন ফ্যাক্টরি পরিদর্শনে গিয়েছি। মার্চ মাসের ১০ তারিখ নবীন ফ্যাশনের কাছে নাকি চাঁদা চেয়েছে, সে অভিযোগটি যদি এতদেরিতে এসে থানায় অভিযোগ করে, তা তো নেওয়া যায় না। সাথে সাথে কেন করল না। আমরা তো নিয়মিত তাদের কারখানা পরিদর্শন করছি, তখন কেন অভিযোগটি জানাল না। গতকাল যখনই পরিবেশ অধিদপ্তর কাগজ পত্র নিয়ে দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলল, তখনই তারা কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করল।’