এ বছর অনিয়ম করলে আগামী বছর সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ: বন প্রতিমন্ত্রী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, চলতি বছর সুন্দরবনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধে জড়িতদের আগামী বছর বনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সুরক্ষিত রাখা হবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মধু আহরণ মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর যদি কেউ অন্যায় করে, আগামী বছর সে সুন্দরবনে ঢুকতে পারবে না। তাদের তালিকা তৈরি করা হবে এবং প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। সুন্দরবনে প্রবেশ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নিয়ন্ত্রিত করতে ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে অপরাধীরা ভিন্ন পরিচয়ে বারবার প্রবেশ করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি নৌকা বনে প্রবেশ করতে পারবে না বলেও জানান তিনি।
মধু আহরণকারীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভেজালমুক্ত মধু সংগ্রহ করলে তা দেশের জন্য অমূল্য সম্পদে পরিণত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও এর চাহিদা তৈরি হবে। স্বার্থপরতার কারণে মধুতে ভেজাল মেশানো হলে তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, জাতীয় ক্ষতির কারণ হবে।
তিনি বলেন, সুন্দরবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। সমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বনদস্যু আমাদের সমাজের একটি অংশ। জলদস্যু-বনদস্যু আমাদের আশেপাশেই বিরাজ করছে। আমরা যদি সামাজিকভাবে সচেতন হই এবং রুখে দাঁড়াই, তারা টিকতে পারবে না। এখানে উপস্থিত মানুষ যদি সাহসী ভূমিকা নেয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাদের শনাক্ত করে এবং প্রশাসনকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নিজের আত্মীয়স্বজন জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা হয় না, বরং সব দায় প্রশাসনের ওপর চাপানো হয়।’
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ, সাতক্ষীরা রেঞ্জের আয়োজনে অনুষ্ঠানে খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার, পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।