০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:১২

সাতকানিয়ায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫

সংঘর্ষে আহত দুজন  © টিডিসি

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আধিপত্য বিস্তার ও একটি মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া-সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে উভয় পক্ষের তিনজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ১০টা ও ১১টার দিকে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরখীল গ্রামের কুমারপাড়া ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধলির গোপাট এলাকায় দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে।

উভয় পক্ষের আহতরা হলেন বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন (৫২), যুবদল নেতা মোহাম্মদ টিপু (৩৫), মোহাম্মদ সাকিব (২৮), মোহাম্মদ আলম (৪০) ও রবিউল ইসলাম (৩০)।

বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুরানগড় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ সাকিবের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি এক নারী-সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আহত সাকিবসহ কয়েকজন মিলে এক যুবকের মোবাইল ছিনিয়ে নেন। এরপর বিষয়টি জসিমকে জানানো হলে তিনি ভুক্তভোগীকে থানা পুলিশের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন। ওই সময় জসিম ফকিরখীল গ্রামের একটি মিষ্টির দোকানে কার্টনের জন্য গেলে হেনস্তার শিকার হন।

আরও জানা যায়, সর্বশেষ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে জসিমের অনুসারী হারুন, ইদ্রিস, মাঈনুদ্দিন, রিয়াদ, রাজিবসহ কয়েকজন সমঝোতার মাধ্যমে মোবাইলটি উদ্ধারের জন্য কুমার পাড়ায় গেলে সাকিব দলবল নিয়ে তাদের ওপর হামলা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি পরবর্তী তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নেন। পরে বিষয়টি জসিমকে জানানো হলে তিনি ও টিপুসহ কয়েকজন মিলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তাদের উদ্ধারের জন্য কুমারপাড়ায় গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে জসিম, সাকিবসহ কয়েকজন আহত হন। এরপর জসিম সেখান থেকে জন্য নতুনহাটে এসে এক পল্লী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তার আঘাত গুরুতর হওয়ায় পল্লী চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

স্থানীয়রা আর জানান, এরপর জসিম, টিপুসহ কয়েকজন মিলে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে রওনা হন। এরপর তারা একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধলির গোপাট এলাকায় পৌঁছালে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. তারেকসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অটোরিকশাটি গতিরোধ করলে আবার মারামারি এবং দুটি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। এতে জসিম ও টিপু গুরুতর আহত হন। পরে এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা মিলে তাদেরকে উদ্ধার করে পুনরায় নতুনহাট নিয়ে আসেন। এরপর পুরানগড়-চৌকিদার ফাঁড়ি ঘাট দিয়ে নৌকাযোগে সাঙ্গু নদী পার হয়ে চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভা হয়ে তারা সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছান। একই সময় বাজালিয়া-শীলঘাটা সড়ক হয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে সাকিব ও আলমসহ অন্যান্য আহতদের কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উভয় পক্ষের আহতদের পৃথকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জসিম উদ্দিন সোচ্চার ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সালিসি বৈঠকে বিচারকের দায়িত্ব পালন করতেন এবং ছোটখাটো বিরোধ মীমাংসা করে দিতেন। এ জন্য একালায় তার একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি ভিডিও বার্তায় জসিম উদ্দিন এ ঘটনাটি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি কামরুল হাসান তালুকদারের ইন্দনে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। অপর দিকে সাকিব এ ঘটনার মূলহোতা হিসেবে জসিমের নাম উল্লেখ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি কামরুল হাসান তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে সন্তানের অসুস্থতার কারণে চট্টগ্রাম নগরীতে অবস্থান করছি। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, জসিম একটি সালিসি বৈঠকে গিয়ে সাকিব ও আলমসহ আরও কয়েকজনের উপর হামলা করে দলবল নিয়ে ফিরে আসার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা করলে তারাও আহত হন। এখানে কোন আমার অনুসারী নেই। তারা উভয় পক্ষই আমার নিকটাত্মীয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

অপর দিকে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. তারেকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।