কুড়িগ্রামে সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি ও রাজারহাট প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার আরিফুল ইসলামের ওপর হামলা, ছিনতাই ও চাঁদা দাবির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। এ ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ১১টায় রাজারহাট প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকরা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
জানা গেছে, গত ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় সিন্দুরমতি মেলা থেকে সংবাদ সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে উপজেলার ‘গ্রিন ক্যাফে’-সংলগ্ন সড়কে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা সাংবাদিক খন্দকার আরিফের মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে। এ সময় হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে এবং পকেটে থাকা প্রায় ৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের অভিযোগ, ‘হামলার সময় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল আনিছ হামলা করার সময় বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণেই তার বাবার রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
অভিযুক্ত সোহেল আনিছ রাজারহাট উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আনিছুর রহমানের ছেলে।
এ ঘটনায় খন্দকার আরিফ বাদী হয়ে রাজারহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
রাজারহাট প্রেস ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন রাজারহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি সরকার অরুণ যদু, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নানা অপরাধে জড়িত। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনা হলে কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এ বিষয়ে রাজারহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, একজন নামীয় এ পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তসহ প্রধান আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।