০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৬

স্কুল ফিডিংয়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হলো পচা কলা

শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠানো হলো পচা কলা  © টিডিসি ফটো

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির তৃতীয় দিনে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠানো কলার একটি বড় অংশ পচা ও কাঁচা হওয়ায় তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরের পর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিস্কুট ও কলা সরবরাহ করা হয়। তবে বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে পৌঁছানো কলাগুলো ছিল কাঁচা ও আংশিক পচা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে কলা ফিরিয়ে দেন।

পরে পচা ও কাঁচা কলার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিস্কুট পেলেও কলা বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষকেরা জানান, কর্মসূচির প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের বানরুটি ও সেদ্ধ ডিম দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় দিন দুধ ও বানরুটি দেওয়ার কথা থাকলেও শুধু বানরুটি সরবরাহ করা হয়। তৃতীয় দিনে বিস্কুটের সঙ্গে কলা দেওয়া হলেও সেগুলোর বেশির ভাগই খাওয়ার অনুপযোগী ছিল।

পূর্ব গহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ‘যেসব কলা পাঠানো হয়েছে, তার অনেকগুলোই পচা ও অপরিপক্ব ছিল। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে আমরা সেগুলো গ্রহণ করিনি।’ 

তৈলারদ্বীপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পুলক সেস বলেন, ‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হলেও নিম্নমানের খাবার সরবরাহে উদ্দেশ্যটাই ব্যাহত হচ্ছে। সকালে খাবার আসার কথা থাকলে বিকালেও তা মেলেনি ক্ষুধার্ত শিক্ষার্থীরা ক্ষুধায় হাসফাঁস করছিল। ঠিকাদারের প্রতিষ্ঠানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করো সাড়া পায়নি।’ 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী বলেন, ‘কয়েকটি বিদ্যালয় থেকে নিম্নমানের কলা সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘স্কুল ফিডিং কার্যক্রম তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। শুরুর দিকে কিছু সমস্যা হয়েছে বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং সতর্ক করেছি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।’

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বদেশ পল্লীর কো-অর্ডিনেটর নাহিদুল আলম দাবি করেন, উপজেলার ৮ থেকে ১০টি বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা কলায় সমস্যা হয়েছে; সব বিদ্যালয়ে নয়। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের খাবারের মান নিশ্চিত করতে সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।