৩১ মার্চ ২০২৬, ১৫:২৩

হামের প্রাদুর্ভাব, কক্সবাজারে এক মাসে শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি

হামে আক্রান্ত একটি শিশু  © সংগৃহীত

কক্সবাজার জেলায় হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। চলতি এক মাসে শতাধিক শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে।

জেলা সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১০৮ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত রবিবার হাসপাতালটি চিকিৎসাধীন ছিল ৩৩ জন শিশু, আর সোমবার নতুন করে আরও ১২ জন ভর্তি হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিল মাত্র ৯ জন শিশু।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন আলমগীর জানান, সাধারণত বসন্ত ও বর্ষার সময়ে হামের সংক্রমণ বেড়ে যায়। তবে এবার সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে। 

তিনি বলেন, জেলায় এ পর্যন্ত ৫৩ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, পরীক্ষার নমুনার মধ্যে ২৮টি পজিটিভ এসেছে। সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে রামুর মিঠাছড়ি ও সদর উপজেলার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়তলী এলাকায়।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টিকাদান কর্মসূচির ফাঁকফোকর ও শিশুদের অপুষ্টি হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও ঝরেপড়া শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি। 

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংক্রামক রোগবিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ এবং পাঁচ বছরের নিচের শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকে। তবে বর্তমানে নয় মাস বয়সের আগে শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এহেচান উল্লাহ সিকদার জানান, গত এক মাসে সাত থেকে আটজন রোহিঙ্গা শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুজন বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। হামের উপসর্গ হিসেবে জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। জটিল হলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানে সংক্রমণ বা মস্তিষ্কে প্রদাহও হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ এবং মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।