সাতক্ষীরায় তেল সংকটে মোটরসাইকেল বাজারে ধস, বাড়ছে ব্যাটারিচালিত বাইকের চাহিদা
সাতক্ষীরায় তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাবে পেট্রোল ও অকটেনচালিত বাইকের বিক্রি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বাজারে অভাবনীয় চাহিদা বেড়েছে ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেলের।
সোমবার (৩০ মার্চ) জেলার বিভিন্ন শোরুম ও ফিলিং স্টেশন ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পে জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিলেও তা এখনো কার্যকর না হওয়ায় অনিশ্চয়তা কাটেনি। এর ফলে তেলের ওপর নির্ভরশীল বাইক নিয়ে রাস্তায় বের হতে বিপাকে পড়ছেন ব্যবহারকারীরা।
শহরের নিউমার্কেট মোড়ের ‘ভেনাস অটোস’-এর তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ১০-১২টি পেট্রোলচালিত বাইক বিক্রি হয়েছিল, মার্চে তা নেমে এসেছে মাত্র ৩টিতে। তবে একই সময়ে ৩৫টি ব্যাটারিচালিত মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে।
শোরুমটির ম্যানেজার আব্দুল মজিদ জানান, তেলের অনিশ্চয়তার কারণে ক্রেতারা এখন ইলেকট্রিক বা ব্যাটারিচালিত বাইকের দিকে ঝুঁকছেন।
একই চিত্র দেখা গেছে চায়না বাংলা মোড়ের ‘ইকো মটরস’-এও।
প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার শেখ পারভেজ জানান, তাদের চারটি শোরুমের মধ্যে তিনটিতেই ব্যাটারিচালিত বাইকের মজুদ প্রায় শেষ। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে যেখানে মাসে ৮-১০টি বিক্রি হতো, মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০-২৫টিতে।
মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই সংক্রান্ত কড়াকড়ি থাকলেও বিআরটিএ অফিসে ড্রাইভিং লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের জন্য অতিরিক্ত ভিড় দেখা যায়নি।
বিআরটিএ সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) উসমান সরওয়ার আলম জানান, চলতি মার্চ মাসে ৩শ থেকে ৪শ রেজিস্ট্রেশনের আবেদন জমা পড়েছে।
তিনি বলেন, আর্থিক সক্ষমতা ও জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে তেলচালিত বাইকের চাহিদা কিছুটা কম।
সাতক্ষীরায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫০টি মোটরসাইকেল শোরুম রয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, বছরের শুরুতে বাজার স্বাভাবিক থাকলেও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় পেট্রোলচালিত বাইকের বাজারে মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। অনেক ক্রেতা শোরুমে এসে খোঁজ নিলেও শেষ পর্যন্ত তেলের দুষ্প্রাপ্যতার আশঙ্কায় ব্যাটারিচালিত বাইককেই বেছে নিচ্ছেন।