গাইড বই বাণিজ্যের অভিযোগ শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে, তদন্তে ‘ধীরগতি’
শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল বিকাশের কারিগর হওয়ার কথা থাকলেও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে উঠেছে নিষিদ্ধ গাইড বই বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ। নির্দিষ্ট প্রকাশনীর গাইড বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা এবং নেপথ্যে লাখ লাখ টাকার অনৈতিক লেনদেনের তথ্য সামনে এলেও ৩৮ দিনেও শেষ হয়নি তদন্ত কার্যক্রম।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রকাশনীর এজেন্টদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্দিষ্ট গাইড বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছেন শিক্ষকদের একটি অংশ।
অভিযোগের সত্যতা মিলছে শিক্ষক সমিতির ব্যাংক হিসাবেও। গত ৯ ফেব্রুয়ারি রূপালী ব্যাংক কালীগঞ্জ শাখার ৮৪৭ নম্বর হিসাবে প্রায় ২৪ লাখ টাকা জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও সমিতির সদস্য সচিব আহসান হাবীব এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিমকে প্রধান করে গঠিত ওই কমিটিকে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে ৩৯ দিন পার হলেও প্রতিবেদন জমা পড়েনি। এই দীর্ঘসূত্রতাকে তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন অভিভাবকরা।
কালীগঞ্জ উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর ওপর এই গাইড বই বাণিজ্যের প্রভাব পড়ছে। পাঞ্জেরি পাবলিকেশনের বিক্রয় প্রতিনিধি সুমন স্বর্ণকার জানান, বাজার বিস্তারের জন্য শিক্ষকদের উপঢৌকন বা কমিশন দেওয়া এখন একটি ‘প্রচলিত নিয়ম’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে অভিভাবকরা বলছেন, উচ্চমূল্যের এসব গাইড বই শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি ও মৌলিক দক্ষতা নষ্ট করছে।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, অর্থ লেনদেন ও গাইড বই চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'শিক্ষার্থীদের ওপর অনৈতিকভাবে গাইড বই চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'