৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬:০৬

যশোরে হামের প্রাদুর্ভাবের শঙ্কায় স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশু  © টিডিসি

যশোরে হামের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে, যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে চিকিৎসকদের। বিশেষ করে টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকায় অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত দুই মাসে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে দুই শতাধিক শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে চলতি মার্চ মাসেই অন্তত ১০ শিশুর হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

রবিবার (২৯ মার্চ) যশোর শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কেউ হাম শনাক্ত করতে, আবার কেউ বসন্ত সন্দেহে পরীক্ষা করাতে হাসপাতালে এসেছেন।

শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকার বাসিন্দা জুলিয়া খাতুন জানান, জ্বর ও শরীরে লাল র‌্যাশ নিয়ে তার ১৫ মাস বয়সী মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা তাকে হামে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, টিকার কার্ড হারিয়ে যাওয়ায় শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে মণিরামপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের উজ্জ্বল দাস জানান, তার আট মাস বয়সী মেয়ের জ্বর ও শরীরে র‌্যাশ দেখা দিলে প্রথমে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে শিশু হাসপাতালে পাঠানো হলে তিনি মেয়েকে ভর্তি করেন।

শিশু হাসপাতালের ওয়ার্ড ইনচার্জ সাইদা সুলতানা জানান, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী আসছে এবং দুই মাসে অন্তত ৯০ জন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেক শিশুর টিকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. সৈয়দ নূর-ই হামিম বলেন, হাসপাতালে টিকার কোনো সংকট নেই। তবে অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে সংক্রমণ বাড়ছে। সচেতনতা বাড়ানো গেলে এ হার কমানো সম্ভব।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রার ডা. আফসার আলী জানান, গত তিন মাসে ৪৫ জন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল এবং তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। কিছু ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল বলেন, হামের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কায় জেলার সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জ্বর ও শরীরে র‌্যাশ দেখা দিলে শিশুদের স্কুলে না পাঠিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, শিশুদের হামের টিকা সাধারণত ১০ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দেওয়া হয়। ফলে অনেক শিশু টিকা নেওয়ার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে। হামের প্রধান লক্ষণ হিসেবে উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা যায়।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, চলতি মার্চ মাসে ল্যাব পরীক্ষায় ১০টি শিশুর হামে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।