২৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৪

নাতনির ওজন মেপে সমপরিমাণ কয়েন উপহার দিলেন নানা

নাতনি সমপরিমাণ ওজনের কয়েন উপহার  © সংগৃহীত

বগুড়া সদর উপজেলায় প্রয়াত স্ত্রীর অপূর্ণ শখ পূরণ করতে নাতনির বিয়েতে ব্যতিক্রমী উপহার দিলেন নানা আবদুল কাদের প্রামাণিক। তিনি নাতনি নাইমা বেগমের সমপরিমাণ ওজনের কয়েন উপহার দেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে বগুড়া সদর উপজেলার ঠনঠনিয়া দক্ষিণপাড়ায় ঘটে যাওয়া এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

দাঁড়িপাল্লার এক পাশে বসানো হয় নাতনি নাইমা বেগমকে, আর অন্য পাশে রাখা হয় কয়েন। উভয় পাশ সমান হলে সেই পরিমাণ কয়েনই উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়।

এ ইচ্ছা পূরণে ওই দম্পতি গত প্রায় ১০ বছর ধরে বাড়িতে কয়েকটি মাটির ব্যাংকে পাঁচ টাকা মূল্যমানের কয়েন সঞ্চয় শুরু করেন। কিন্তু পাতা বেগম তার সেই শখ পূরণ করার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। গত ২০২৩ সালের দিকে স্ত্রীর মৃত্যুর পর কাদের প্রামাণিক তার শখ পূরণ করতে কয়েন সঞ্চয় অব্যাহত রাখেন।

এদিকে দেড় বছর আগে নাতনি নাইমা বেগমের বিয়ে হয় বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বেজোড়া গ্রামের ঠিকাদার হৃদয় হাসানের সঙ্গে।

কিন্তু তখন কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ কয়েন সঞ্চয় না হওয়ায় আবদুল কাদের স্ত্রীর শখ পূরণ করতে পারেননি। সম্প্রতি নাতনি নাইমাকে উপহার দেওয়ার মতো কয়েন সঞ্চয় হয়। তিনি এ কয়েনগুলো নাতনিকে উপহার দেওয়ার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যায় তার বাড়িতে নতুন করে নাতনির বৌভাতের আয়োজন করেন। সেখানে নাইমা, তার স্বামী হৃদয় হাসানসহ পরিবারের সব সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করেন।

আপ্যায়ন শেষে রাত ৮টার দিকে স্বজনদের সামনে নিয়ে বাড়িতে একটি বড় দাঁড়িপাল্লা আনা হয়। এক পাল্লায় নববধূর সাজে সজ্জিত নাইমা বেগম বসেন ও অন্য পাল্লায় তুলে দেওয়া হয় জমানো কয়েন। অধিকাংশই পাঁচ টাকা মূল্যমানের কয়েনের ওজন হয় ৭০ কেজি ৩০০ গ্রাম। ওজন শেষে কয়েনগুলো উপহার হিসেবে নাইমা ও হৃদয় দম্পতিকে দেওয়া হয়।

আবদুল কাদের প্রামাণিক জানান, বগুড়ার শিবগঞ্জে একটি বিয়ের সময় কনের সমান ওজনে কয়েন উপহার দেওয়ার খবর পত্রিকায় দেখেছিলেন। বড় মেয়ে ফেরদৌসী বেগমের বিয়ের পর তার ঘরে প্রথম কন্যা সন্তান নাইমা বেগমের জন্ম হয়। তার প্রয়াত স্ত্রী পাতা বেগম নাতনি নাইমার বিয়ের সময় তার সমান ওজনে কয়েন উপহার দেওয়ার শখ করেন। এরপর থেকে তারা দুজন মিলে কয়েকটি মাটির ব্যাংকে কয়েন জমাতে শুরু করেন।

তিনি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, শখ পূরণ ঠিকই হলো কিন্তু তার স্ত্রী পাতা বেগম সেটা দেখে যেতে পারলেন না। এরপরও প্রয়াত স্ত্রীর শখ পূরণ করতে পেরে আবদুল কাদের অনেক খুশি। 

নানার কাছ থেকে এমন ব্যতিক্রমী উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত নাতনি নাঈমা খাতুন। তিনি বলেন, ‘নানির শখ ছিল আমার বিয়েতে এ ব্যতিক্রমী উপহার দেওয়ার। বিয়ের সময় নানার সামর্থ্য ছিল না, তবে নানির ইচ্ছা আজ পূরণ করলেন তিনি। নাতনির প্রতি নানার এ ভালোবাসায় অভিভূত আমি। নানি বেঁচে থাকলে আরও বেশি ভালো লাগত।’