তেল মজুদ করতেন বিএনপি নেতা, বিক্রি করতেন ছেলে যুবলীগ নেতা
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় এক বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ড্রামভর্তি পেট্রোল উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ শনিবার সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান গণমাধ্যমকে এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বিকেলে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু জাহানের বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়। একটি পরিত্যক্ত ঘরে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ড্রামভর্তি পেট্রোল পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের সংকটকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি নেতা আবু জাহান বিভিন্ন পাম্প থেকে অবৈধভাবে পেট্রোল সংগ্রহ করে মজুত করতেন। পরবর্তীতে তার ছেলে এরশাদুল হক, যুবলীগ নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত, সেই তেল বাজারে চড়া দামে বিক্রি করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রতি লিটার পেট্রোল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, এমনকি কখনও কখনও ৩০০ টাকা দরেও বিক্রি করে আসছিলেন। তবে অভিযান চলাকালে আবু জাহান বা তার ছেলে এরশাদুল হকের কাউকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত আবু জাহানের ছোট ছেলে হারুনুর রশিদ জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
অভিযান ও জরিমানার বিষয়ে হারুনুর রশিদ দাবি করেন, ‘আমার বাবা বিএনপির রাজনীতি করেন। বড় ভাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। কিন্তু তিনি এখন বাজারে তেলের ব্যবসা করেন। আমাদের বাড়িতে তিনটি মোটরসাইকেল আছে, এই পেট্রোল আমাদের নিজস্ব মোটরসাইকেলে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল।’
যদিও স্থানীয়দের দাবি, এরশাদুল যুবলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, তবে তার নির্দিষ্ট পদ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত করতে পারেননি।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে রৌমারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসেম বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। যদিও বিষয়টি তার ব্যক্তিগত...তার ছেলে নাকি তেল ব্যবসার সাথে জড়িত। আমরা সাংগঠনিকভাবে তাকে সতর্ক করব।’ অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জরিমানার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি তাদের সতর্ক করা হয়েছে। তেলের ড্রামটি জব্দ করা হয়েছে।’ তেল চুরিকারবার ও অবৈধ মজুত রোধে প্রশাসনের এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।