২৮ মার্চ ২০২৬, ০০:১৯

পণ্যবোঝাই ট্রলার আটকে কৃষকের কাছে চাঁদাবাজি, উপ-খাদ্য পরিদর্শক গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা  © টিডিসি

পটুয়াখালীর বাউফলে কৃষকের দায়ের করা একটি চাঁদাবাজি মামলায় খাদ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে ভোররাতে অভিযান চালিয়ে বাউফল থানা পুলিশের একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার মো. অলিউল্লাহ্ ওরফে অলি মির্জাগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের উপ-খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন।

পুলিশ জানায়, কৃষক আরব আলীসহ রাঙ্গাবালী ও চরফ্যাশন উপজেলার একাধিক কৃষক বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে জমি লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছেন। চলতি মৌসুমে দিয়ারাকচুয়া এলাকায় লিজ নেওয়া জমিতে তরমুজের ভালো ফলন পেয়েছেন তারা। কিন্তু তরমুজ বড় হতেই গ্রেফতার অলি’র নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত কৃষকদের লিজ নেওয়া জমি নিজেদের দাবি করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, চাষিরা প্রায় ৯ হাজার পিস তরমুজ সংগ্রহ করে দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৭ লাখ টাকারও বেশি। গত ১৬ মার্চ অলি ও তার সহযোগীরা তরমুজ সরবরাহে বাধা দেন এবং দেশীয় অস্ত্র হাতে চাষিদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তরমুজবোঝাই দুটি ট্রলার জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যান অলি ও তার সহযোগীরা। পরবর্তীতে অভিযুক্ত অলি ১০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে ৪ হাজার পিস তরমুজসহ একটি ট্রলার ফেরত দেন।

গ্রেপ্তার মো. অলিউল্লাহ্ ওরফে অলিকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে বাউফল থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী কৃষক আরব আলী। মামলায় অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই মামলায় অলিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। 

পটুয়াখালী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নাসির উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।