২৬ মার্চ ২০২৬, ১৮:০৯

ছেলেকে না পেয়ে বাবা-মাকে মারধর, অপমানে নিজেকে শেষ করলেন মা

পরিবারের আহাজারি  © সংগৃহীত

অভিযোগ ছিল গরু চুরির। এ অভিযোগেই যুবককে ধরতে গিয়ে না পেয়ে তার বাবা-মাকে তুলে নিয়ে শালিসিতে মারধর করা হয়। এ অপমান সইতে না পেরে জোসনা বানু নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের খলিলহাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মধ্যবয়সি জোসনা বানু ওই এলাকার সুরুজ আলীর স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ২টার দিকে উপজেলার খলিলহাটা এলাকার পুলিশ সদস্য নায়েব আলীর বাড়িতে গরু চুরির চেষ্টা করে কয়েকজন। এ ঘটনার পর রাত প্রায় ৩টার দিকে প্রতিবেশী সুরুজ্জামানের বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে সুজন মিয়াকে চোর সন্দেহে ধরতে যান ইউপি সদস্য নায়েব আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন। তবে সুজনকে না পেয়ে তার বাবা সুরুজ আলী ও মা জোসনা বানুকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় নায়েব আলীর বাড়িতে।

পরে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি নিয়ে সালিশ বসে। সালিশ বৈঠকে ওই এলাকার আরও দুইজন তোতা মিয়া ও সোহেল রানাকে চোর সন্দেহে ডেকে এনে মারধর করা হয়। সেই ব্যক্তিদের সাথে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও মারধর করা হয়। পরে জোসনা বানু বাড়ি ফিরে তিনি আত্মহত্যা করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য নায়েব আলী। এ ঘটনায় জরুরি সেবায় ফোনে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। আর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানায় পুলিশ।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সুজনের মা-বাবাকে ধরে মারধরের ঘটনার বিষয়ে আগে পুলিশকে জানানো হয়নি। তার মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।