ঠিক এক মিনিট আগেই ডাক দিছি— ‘বাবা নিচে নেমে আসো’
‘ঠিক এক মিনিট আগে আমার ছেলেরে ডাক দিছি, বাবা নেমে আসো। থাকলে সেও শহিদ হতো’ — কান্নাজড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রাজবাড়ীর পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাসটিতে থাকা এক যাত্রী। স্ত্রী-দুই সন্তানসহ বাসটিতে ছিলেন তিনি। এরমধ্যে তিনিসহ ৩জন বাস থেকে নেমে আসলেও নিখোঁজ রয়েছেন তাদের মেয়ে।
বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে নদীতে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ওই যাত্রী আরও বলেন, ‘গাড়ির সমস্যা ছিল। সারা রাস্তা মনে হয়েছে গাড়ির সমস্যা।’
এর আগে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ৩নং পল্টুন থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরীতে ওঠার সময় পড়ে যায়। বাসটিতে ৫০ জনের বেশি যাত্রী ছিল বলে জানিয়েছেন ওই বাসের একাধিক যাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩নং ঘাটের পন্টুনে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।
সৌহার্দ্য বাসে থাকা আবদুল আজিজুল নামে আরেক যাত্রী জানান, তিনি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার গান্ধীমারা এলাকা থেকে এই বাসটিতে উঠেছিলেন। নদীতে পড়ে যাওয়ার পর তিনি সাঁতরে উপরে উঠতে পারলেও তার স্ত্রী ও শিশুসন্তান নিখোঁজ রয়েছেন।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে গেছে। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে আমাদের ডুবুরি দল আসছে। তারা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেবে।
এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা সদর দফতর থেকে আরও ডুবুরি টিম ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।