২৫ মার্চ ২০২৬, ১৪:১৬

পাহাড়ি লালমাটির আনারস জলডুগিতে জল দিচ্ছে চাষিরা

আনারস ক্ষেতে পানি দিচ্ছেন এক কৃষক  © টিডিসি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পাহাড়ি লালমাটিতে আনারস আবাদ করে পানির জন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতেন চাষিরা। কয়েক বছর বছর ধরে আর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। পাহাড়ি লালমাটির বিস্তৃীর্ণ এলাকায় কোথাও বসানো হয়েছে বিদ্যুৎ-চালিত সেচপাম্প, কোথাও আবার বসানো হয়েছে জেনারেটরের সেচপাম্প। আনারস ক্ষেতে সেচের ব্যবস্থা করায় আগের চেয়ে জলডুগি আনারস এখন একটু বড় দেখতে, পাকলে বেশ আকর্ষণীয় হয়। দাম বেশি পেয়ে জলডুগি আনারসে চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। 

ফুলবাড়িয়া উপজেলার নাওগাঁও, রাঙামাটিয়া  ইউনিয়নের পাহাড়ি লালমাটিতে ৬৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয় আনারস। এর মধ্যে ক্যালেন্ডার, হানিকুইন জাতের  আনারসের পাশাপাশি আবাদ হয় জলডুগি আনারস। ২৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয় জকডুগি আনারস।  প্রতি মৌসুমে আনারস আবাদ করে কৃষকের ঘরে উঠে ৫ কোটি টাকা। 

পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য জাতের আনারসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আবাদ হচ্ছে জলডুগি আনারস। বিশেষ করে পরিত্যক্ত রাবার গাছ কাটার পর রাবার চারা লাগানোর ৩ বছর পর্যন্ত পতিত থাকে বিস্তৃত জমি। বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বশিউক) থেকে জমি লিজ নিয়ে জলডুগি আনারস আবাদ করেন চাষিরা। অনেক চাষি আনারস ক্ষেতে পানি সেচের জন্য পাম্প স্থাপন করে বিদ্যুৎ ও জেনারেটর দিয়ে পানি উত্তোলন করে ক্ষেতে দিচ্ছেন।

আনারস চাষি হাবিবুর রহমান জানান, তিনি রাবার বাগানের কাছ থেকে ৩ বছর জন্য লিজ নিয়ে সাড়ে তিন একর জমিতে জলডুগি আনারস আবাদ করেছেন। খড়াকালীন সময়ে আনরস পেকে যায় বলে এক সময় আনারস হৃষ্টপুষ্ট হত না। আনারস পাকলেও তা দেখতে আকর্ষণীয় হত না। আনারস ক্ষেতে পানি দেয়ার থেকে আনারস দেখতে সুন্দর দেখায় ও ক্রেতাদের দৃষ্টি কাড়ে। ফলে দামও বেশি পাওয়া যায়। 

শ্রমিক আকবর আলী জানান, ফাল্গুন মাস হল জলডুগি আনারস চাষের উত্তম সময়। রোপণের ৬ মাসের মধ্যে আনারস পাওয়া যায় বলে জলডুগি আনারস চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নূর মোহাম্মদ জানান, খুব কম সময়ে জলডুগি আনারস বিক্রি করা যায় বলে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ আনারস চাষিদের নানা ভাবে পরামর্শ দিয়ে আসছে।