২৫ মার্চ ২০২৬, ১৪:০২

যশোরে পাম্পে পাম্পে ঘুরেও মিলছে না জ্বালানি, দুর্ভোগ

একটি ফিলিং স্টেশন   © টিডিসি

ঈদের ছুটি কাটতে না কাটতেই যশোরে আবার জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। পাম্পগুলোয় মিলছে না জ্বালানি। জেলার অধিকাংশ পাম্পে তেল নেই; হাতে গোনা দু-একটি পাম্পে অকটেন ও ডিজেল পাওয়া গেলেও পেট্রোল নেই। ফলে পাম্পে পাম্পে ঘুরতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এতে ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, মোটরসাইকেলে প্রয়োজনীয় কাজে শহরে এসে তিনি বিপাকে পড়েছেন। রিজার্ভের জ্বালানি দিয়ে বেশ কিছু পথ পাড়ি দিয়ে আকিজ পাম্প, আইয়ুব আলী পাম্প, ইউনিক, সোনালী পাম্পসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরেও পেট্রোল পাননি। অবশেষে খাজুরা বাসস্ট্যান্ডের প্রান্তি পাম্পে এসেছেন সামান্য জ্বালানির আশায়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘সরকার মুখে আশ্বস্ত না করে বাস্তবে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করে আমাদের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিক।’

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মিজানুর রহমান। মণিহার ও গাড়িখানা রোডের তোফাজ্জেল পাম্পসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরেও তিনি পেট্রোলের সন্ধান পাননি। তিনি অভিযোগ করেন, পাম্পগুলো শুধু বন্ধই রাখা হয়নি, কেন জ্বালানি নেই, তা জানানোর মতো কোনো লোকও সেখানে পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘সরকার বলছে তেলের পর্যাপ্ত রিজার্ভ আছে, অথচ পাম্পে এলে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এই বৈপরীত্যের কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।’

শহরের পুরাতন কসবা এলাকার এক যুবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখন মোটরসাইকেল রেখে হাঁটার সময় চলে এসেছে। সকাল থেকে ঘুরেও পেট্রোল পাচ্ছি না। নতুন সরকার অনেক আশ্বাস দিলেও ভোগান্তি কমছে না।’

জ্বালানি তেল পাম্প মালিক সমিতির সদস্য ও মেসার্স প্রান্তি পেট্রোলিয়ামের স্বত্বাধিকারী রিমনুজ্জামান জানান, বর্তমানে কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে রেশনিং করে ডিপো থেকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আজ শুধু অকটেন পেয়েছি, যা গ্রাহকদের দিচ্ছি। আশা করছি, আগামীকাল পেট্রোল পাব।’

তিনি আরও জানান, ঈদের পর আজ ব্যাংক খোলায় মালিকরা পে-অর্ডার জমা দিচ্ছেন। এরপর তেল ছাড় হলে সাধারণ গ্রাহকদের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।