২৪ মার্চ ২০২৬, ১৬:৫৭

সৎ মায়ের নির্যাতন, মায়ের কবরের পাশে কাঁদছিল শিশুটি

সৎ মায়ের নির্যাতন, মায়ের কবরের পাশে কাঁদছে শিশুটি  © সংগৃহীত

চার বছর আগে মায়ের মৃত্যুর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন বাবা। তিনি অবস্থান করছেন সৌদি আরবে। কিন্তু বাবার অনুপস্থিতিতে সৎ মা আয়েশা আক্তারের কাছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে শিশুটি। তার বয়স বর্তমানে ১২ বছর। নির্যাতনের শিকার হয়ে সম্প্রতি মায়ের কবরের পাশে তার কান্না করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। চাঞ্চল্য সৃষ্টির পর প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১১টায় সৎ মা ও শিশুটিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করা হয়। এ সময় তার সৎ মা উপস্থিত হয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ আর করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

জানা গেছে, ১২ বছর বয়সী ছামিয়া আক্তার উপজেলার পোহনকুছা পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রায় চার বছর আগে তার মা মারা যান। এরপর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বাবার অনুপস্থিতিতে সৎ মা আয়েশা আক্তারের সঙ্গে বসবাস করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীকে প্রায়ই মারধর করত তার সৎ মা। এমনকি সম্প্রতি টানা দুই দিন ঘরের ভেতরে বেঁধে রেখে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটে। এ বিষয়ে বাবাকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরীটি তার মায়ের কবরের পাশে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

মায়ের কবরের পাশে কান্না করতে করতে বলতে শোনা যায়, ‘আমারে কেন আপনার সঙ্গে নিয়ে গেলেন না। আম্মু গো আমি আসছি। আম্মু গো বের হও। আমারে নিয়ে যেতে পারেন নাই? কেন রেখে গেলেন? মা, আমাকে নিয়ে যাও।’ হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য দ্রুতই নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং জনমনে ব্যাপক সহানুভূতির সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেন এবং তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। ইউএনও উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, শিশুটির সৎ মা আয়েশা আক্তারকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পুনরায় এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হয়েছে। শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।