২৪ মার্চ ২০২৬, ১৫:২৬

খাগড়াছড়িতে জ্বালানি সংকটে বিপাকে পর্যটক-বাইকাররা

ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির অপেক্ষায় বাইকাররা  © টিডিসি

ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢলে মুখর খাগড়াছড়িতে হঠাৎ জ্বালানি তেলের সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক ও বাইকাররা। ফিলিং স্টেশনগুলোয় দীর্ঘ সারি, রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি এবং সাজেকসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ম্লান হয়ে গেছে ঈদের আনন্দ। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে তেলের সংকট নেই; বরং ঈদের অতিরিক্ত চাপেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। 

ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন থেকেই জেলার রিসোর্ট ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় পর্যটকের ঢল নামে। টানা ১০ দিনের ছুটিতে বাইকারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে ঠিক সেই সময়ে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় অনেকেই সাজেক ভ্রমণ বাতিল করে হতাশ হয়ে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকে জেলা শহর ও দীঘিনালার ফিলিং স্টেশনগুলোয় ছোট-বড় যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়। বিকেলের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। রাত ১টা পর্যন্ত রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিতরণ করতে হয়, আর পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সন্ধ্যার পর থেকে খাগড়াছড়ি সদর জোনের সেনাবাহিনীর একটি টিম সরাসরি তদারকি শুরু করেছে। খাগড়াছড়ি সদর থানার পুলিশ সকাল ৮টা থেকে রাত পর্যন্ত ফিলিং স্টেশন এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মো. কায় কিসলু বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের টিম তেলের পাম্পে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে। প্রত্যেককে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। আমরা মাঠে আছি, যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।’

পর্যটকরা অভিযোগ করছেন, ঈদের মতো বড় ছুটিতে পর্যটননির্ভর এলাকায় তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা উচিত ছিল। খুলনা থেকে আসা বাইকার জাহিদ বলেন, ‘জ্বালানি না পাওয়ায় সাজেক যাওয়া হচ্ছে না। আমাদের মতো আরও অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। এত বড় ছুটিতে এটা পর্যটন খাতের জন্য বড় ধাক্কা।’

অফিসের জরুরি কাজে বাইকে তেল নিতে আসা নবলেশ্বর ত্রিপুরা লায়ন বলেন, ‘চার ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার পর অবশেষে তেল পেয়ে মনে হলো, আমি পাইলাম, আমি ইহাকে পাইলাম! প্রথমে যারা পেয়েছিল তারা ১০০০ টাকার তেল পেয়েছে, পরে ৫০০, আর আমার ভাগ্যে জুটেছে মাত্র ৩০০ টাকার তেল!’

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষও সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন। মেসার্স মেহেরুন্নেছা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার প্রবীর কুমার দাশ বলেন, ‘ডিপো থেকে দৈনন্দিন চাহিদার তেলই পাচ্ছি না। তার ওপর ঈদের বাড়তি চাপ মিলিয়ে গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন কেসি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার।

তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে তেলের সংকট নেই; বরং ঈদের অতিরিক্ত চাপেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। 

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘কাগজে কলমে পর্যাপ্ত তেল মজুদ আছে। তেলের প্রকৃত সংকট নেই, শুধু ঈদের অতিরিক্ত চাপের কারণে পাম্পগুলোতে সারির সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বাড়তি তেল কিনে মজুদ করছে। আমরা চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছি।’

সংকটের মধ্যেও পর্যটকদের আগমন থেমে যায়নি। সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানিয়েছেন, এক দিনেই দেড় শতাধিক বাইক এবং তিন হাজারের বেশি পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছেন।

তেলের অস্থিরতা ও দীর্ঘ সারির মধ্যেও পর্যটকরা পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগে ব্যস্ত। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে দরকার সমন্বিত পরিকল্পনা ও আগাম প্রস্তুতি, না হলে পর্যটন শিল্পে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।