ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আটক ১৯
পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ মামলা করেনি। তবে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে এ তথ্য জানান ঈম্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান।
তিনি জানান, এখনো কোনো পক্ষ এজাহার জমা দেয়নি। এজাহার জমা দেওয়া মাত্রই মামলা এন্ট্রি করা হবে। আর এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা এ বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত ছিল কি না, যাচাই চলছে।
এর আগে গতকাল সোমবার ঈশ্বরদীর রেল গেট ও পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসান গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মেহেদী হাসান বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থক ঈশ্বরদী পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আব্দুল রউফকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠে হাবিব সমর্থক উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরুল কায়েস সুমনের বিরুদ্ধে। পরে ইমরুল কায়েস সুমনের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে জাকারিয়া পিন্টুর ভাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসানের নামে থানায় মামলা করা হয়। ওই ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে মামলাটি মিথ্যা দাবি করে মেহেদী হাসান। একই দিন বিভিন্ন এলাকায় মারধর, হামলা, ভাঙচুর, চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে হাবিব গ্রুপের নেতাকর্মীরা। সংবাদ সম্মেলন শেষে উভয়পক্ষ মিছিল বের করলে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময়ে ঈশ্বরদী পৌর শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে হাবিবুর রহমান হাবিবের নির্বাচনি অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় ১৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ৬টি পুড়িয়ে দেয় মেহেদী হাসান গ্রুপ। এ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হন। তাদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।