শেরপুরের পাহাড়ি জনপদে শুষ্ক মৌসুমে পানির হাহাকার
শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি জনপদে শুষ্ক মৌসুম এলেই ফিরে আসে পানির হাহাকার। বছরের পর বছর ধরে সুপেয় পানির স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় এসব এলাকার মানুষকে প্রতি মৌসুমেই চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেকেই বাধ্য হয়ে পুকুর, ঝরনা ও কুয়ার পানি ব্যবহার করছেন, যা নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে পানির সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ, ফলে ক্ষতির মুখে পড়ছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাড়িতে টিউবওয়েল থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১০০ থেকে ১২০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে সাধারণ টিউবওয়েলগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে যেসব পরিবার আর্থিকভাবে কিছুটা সচ্ছল, তারা সাবমার্সিবল পাম্পের মাধ্যমে পানির চাহিদা মেটাতে পারলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
শ্রীবরদী উপজেলার মালাকোচা, টিলাপাড়া, বালিজুড়ি, বিলভরাট ও মেঘাদল গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার নওকুচি, গজনী, নলকুড়া ও ধানশাইল গ্রামে একই চিত্র দেখা গেছে। এ ছাড়া নালিতাবাড়ী উপজেলার গারোপাড়া, বাতকুচি ও লক্ষ্মীকুড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়েও পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় তীব্র সংকট বিরাজ করছে।
ঝিনাইগাতীর নওকুচি এলাকার নৃগোষ্ঠীর গৃহিণী সিলভী রানী কোচ জানান, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা পানির সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কেউ খোঁজ নেন না। তিনি বলেন, ‘আমাদের ১৫টি বাড়ির জন্য একটি টিউবওয়েল দিলেও অনেক উপকার হতো।’
একই সুর শোনা যায় শ্রীবরদীর মালাকোচা গ্রামের কৃষক সোহেল রানার কণ্ঠেও। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা পুকুরের পচা পানি খাইয়া অসুস্থ হয়ে পড়ছি। আমাদের জন্য কেউ নেই। গভীর নলকূপ বা সাবমার্সিবল পাম্প দিলে অন্তত এই কষ্টটা কমতো।’
বেসরকারি সংস্থা এসএইচআরএসের তথ্যমতে, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বর্তমানে সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন। তবে এখন পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বড় কোনো সরকারি উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে এসব পাহাড়ি এলাকায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে নিরাপদ পানির অভাবে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ি এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এ সংকট সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জরিপ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।