২৩ মার্চ ২০২৬, ১৪:৩৯

ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়

কুয়াকাটায় পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়  © টিডিসি ফটো

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে ‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটা। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকত পরিনত হয়েছে এক উৎসবের নগরীতে। লোনা জলের মিতালি আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কুয়াকাটায় ছুটে এসেছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের দিন বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই চিত্র বদলে যায়। সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, শুঁটকিপল্লি, ঝাউ বাগান, গঙ্গামতি, লাল কাঁকড়ার চর ও রাখাইন মার্কেট—প্রতিটি পর্যটন স্পটেই এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। কেউ উত্তাল ঢেউয়ে জলকেলিতে মত্ত, কেউবা ঘোড়ার পিঠে বা স্পিডবোটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

রমজান মাসজুড়ে পর্যটকের চাপ না থাকায় কুয়াকাটা সৈকত ফিরে পেয়েছে তার আদি প্রাকৃতিক রূপ। বালুচরে লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ আর লতা-গুল্মের সবুজ সমারোহ সৈকতে এক নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করেছে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক আমিন হাফিজ বলেন, ‘পরিবার নিয়ে ঈদের ছুটি কাটাতে এসেছি। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় দারুণ সময় কাটছে।’ আরেক পর্যটক কেয়া মনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘সমুদ্রের ঢেউ আর খোলা হাওয়া—সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দটা এখানে পূর্ণতা পেয়েছে।’

দীর্ঘদিন পর্যটকশূন্য থাকার পর কুয়াকাটা আবার সরগরম হওয়ায় হাসি ফুটেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে। বর্তমানে প্রায় ৯০ শতাংশ হোটেল-মোটেল বুকিং রয়েছে।

আবাসিক হোটেল সারোয়ার প্যারাডাইস-এর জেনারেল ম্যানেজার রিপন সাব্বির বলেন, ‘পর্যটকদের এমন উপস্থিতি আমাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।’ 
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, ‘বর্তমানে প্রায় ৯০ শতাংশ হোটেল-মোটেল বুকিং রয়েছে। পর্যটকদের এই উপস্থিতিতে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে ওঠার আশা করছি।’

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুয়াকাটা জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সাদা পোশাকে নজরদারির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ছুটি উপভোগ করতে পারেন, সেজন্য আমরা সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছি।’