বিশ্ব পানি দিবস সরকারি উদ্যোগে পালনের আহ্বান
‘যেখানে পানি বহে, সেখানে সমতা জন্মায়’ স্লোগানকে সামনে রেখে সারা বিশ্বে পালিত হয়েছে বিশ্ব পানি দিবস ২০২৬।
আজ রবিবার (২২ মার্চ ২০২৬) বিকেলে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন তরী বাংলাদেশ এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ে বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নদী ও পরিবেশ কর্মীগণ বিশ্ব পানি দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা করেন।
নদী কর্মী সোহেল রানা ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় মুখ্য আলোচক ‘হাওর অঞ্চলবাসী’ সংগঠনের সমন্বয়ক জাকিয়া শিশির বলেন, নদী এবং খালের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আমাদেরকে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কাজ করতে হবে। এ দুটি পক্ষের জন্য যদি আমরা প্রেসার গ্রুপ হয়ে কাজ করতে পারি, তাহলে আমাদের কাজের সুফল দ্রুত পাওয়ার ব্যাপারে আশা করতে পারি। সেই সাথে আমাদের পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকে শিশুদের মনস্তরে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য স্কুলে স্কুলে আলোচনার ব্যবস্থা করতে হবে।
তরী বাংলাদেশ এর আহবায়ক শামীম আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ হলো নদীমাতৃক দেশ। এদেশে রয়েছে মিঠা পানি ও জলজ প্রাণীর অফুরন্ত ভান্ডার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেগুলো আমরা নিজেরাই ধ্বংস করছি। তাই অন্তত আগামী প্রজন্মের বেঁচে থাকার প্রয়োজনে হলেও নদী, খাল, বিল ও প্রকৃতি সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে নাফিস আহমেদ সেলিম বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সন্তান হিসেবে ছোটবেলায় আমরা শহরের ভিতরের টাউনখালে দিব্যি সাঁতার কাটতাম, মাছ ধরতাম, লাফিয়ে বেড়াতাম। শহরের কয়েক বাড়ি পর পর ছিল দৃষ্টিনন্দন পুকুর, বাড়ি বাড়ি ছিল ফুলের বাগান কিন্তু এখন আর এসবের কিছুই নেই। তাই শহরের পুরনো ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে আরো সচেতন থাকতে হবে এবং শহরকে দখল-দূষণ থেকে রক্ষা করতে হবে।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সুশান্ত পাল, মোস্তফা দেলোয়ার, ওমর ফারুক, গাজী তানভীর আহমদ, এডভোকেট সাকিবুল ইসলাম সনেট, মোহাম্মদ বিন সালাউদ্দিন, আব্দুল হেকিম, মোহাম্মদ রুবেল মিয়া, মনির হোসেন প্রমূখ।
বক্তারা পানির অপচয় রোধে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে সরকারি উদ্যোগে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধির অনুরোধ জানান সেই সাথে সারাদেশে শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়ে নদী-খালের পানি প্রবাহ ও নাব্যতা নিশ্চিতের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এবং বিশ্ব পানি দিবস সরকারি উদ্যোগে পালনের আহ্বান জানান।