ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন পারকি সমুদ্রসৈকতে
ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্রসৈকতে বাড়ছে পর্যটকদের উপস্থিতি। নগর জীবনের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে প্রকৃতির নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে প্রতিদিনই পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ছুটে আসছেন ভ্রমণপ্রেমীরা।
বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত পারকি সমুদ্রসৈকত স্থানীয়ভাবে ‘পারকির চর’ নামে পরিচিত। প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকত চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় স্বল্প সময়ে ভ্রমণের জন্য এটি হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় গন্তব্য।
প্রকৃতি আর সমুদ্রের অনন্য মেলবন্ধন
সৈকতের বিস্তৃত বালুচর, সারিবদ্ধ ঝাউবন ও নীল সমুদ্রের ঢেউ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। ভাটার সময় সৈকতজুড়ে দেখা যায় লাল কাঁকড়ার বিচরণ, যা পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। একই সঙ্গে দূরে সমুদ্রপথে চলাচলরত জাহাজের দৃশ্য উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা।
ঈদের ছুটিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সৈকতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে পরিবার নিয়ে পিকনিক করছেন, আবার কেউ ফটোশুট বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় সময় কাটাচ্ছেন।
বিনোদনের সুযোগ বাড়ছে
পর্যটকদের সুবিধার্থে সৈকত এলাকায় গড়ে উঠেছে খাবারের দোকান, অস্থায়ী স্টল ও বিশ্রামস্থান। স্পিডবোট ভ্রমণ, সি-বাইক এবং ঘোড়ায় চড়ার সুযোগও রয়েছে। নির্ধারিত ভাড়ায় এসব সেবা গ্রহণ করছেন দর্শনার্থীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ছুটির সময় পর্যটক বাড়লে তাদের ব্যবসাও জমে ওঠে।
আশপাশে ঘোরার সুযোগ
পারকি সৈকত ভ্রমণের পাশাপাশি কাছাকাছি কর্ণফুলী টানেল এলাকা, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি, কেইপিজেড, পাহাড়ঘেরা হিলটপ পার্ক ও মেন্না গার্ডেনসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখছেন পর্যটকেরা। পথে ছোট পাহাড়, সবুজ প্রান্তর ও শিল্পাঞ্চলের দৃশ্য ভ্রমণে ভিন্ন অভিজ্ঞতা যোগ করে।
উন্নয়ন কার্যক্রম
সৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প বিকাশে সরকারি উদ্যোগে পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ চলছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা
পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মোটেল ও আবাসন সুবিধা গড়ে উঠছে। সৈকতের পাশে ছোট-বড় রেস্টুরেন্টে সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি ও কাঁকড়াসহ বিভিন্ন খাবার পাওয়া যায়। অনেক পর্যটক সৈকতেই বারবিকিউ আয়োজন করেন।
সতর্ক থাকার পরামর্শ
স্থানীয়দের মতে, সমুদ্রে নামার আগে জোয়ার-ভাটার সময় সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে পর্যটকদের।
যাতায়াত ব্যবস্থা
চট্টগ্রাম শহর থেকে নৌপথে কর্ণফুলী নদী পার হয়ে কিংবা কর্ণফুলী টানেল ব্যবহার করে সহজেই পারকি সমুদ্রসৈকতে পৌঁছানো যায়। টানেল পার হয়ে রাঙাদিয়া বা চাতরী এলাকা থেকে অটোরিকশায় অল্প সময়েই সৈকতে যাওয়া সম্ভব।
স্বল্প দূরত্বে সমুদ্র ভ্রমণের সুযোগ থাকায় ঈদের ছুটিতে পারকি সমুদ্রসৈকত এখন ভ্রমণপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে।